সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয়া হলে সৈয়দপুর উপজেলার একাধিক কর্মকর্তা তা আমলেই নিচ্ছেন না। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক গতিশীলতা বাড়ানো এবং দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সরকার। কিন্তু কর্মকর্তারা কেউ আসছেন সকাল সারে ১০ টায়, কেউ সারে ১১ টায়। আবার কেউ বিকেল ৩ টা পর্যন্ত অফিসেই আসছেন না। গতকাল ১ জুন সকাল সারে ৯ টা থেকে বিকেল, ৩ পর্যন্ত সরেজমিন গিয়ে এমনই চিত্র দেখা গেছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের ২ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশনা দেন।

নির্দেশনায় বলা হয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে যাওয়ার পথে ব্যক্তিগত কাজে সময় দেয়ায় নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। এতে উপকার ভোগী মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যাহত হয় এবং প্রশাসনিক গতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই পরিস্থিতি এড়াতেই নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন সরকার। তাছাড়া দাপ্তরিক কাজেও যেন ৪০ মিনিট সময় বিঘিœত না হয়, সেদিকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

দাপ্তরিক কাজ ছাড়া কোনো অবস্থাতেই অফিস চলাকালীন সময়ে কর্মস্থল ত্যাগ করা যাবে না। কিন্তু সরকারের এ নির্দেশনা সৈয়দপুর উপজেলার দায়িত্বরত বেশিরভাগ কর্মকর্তা তোয়াক্কাই করছেন না।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শুধু মাত্র সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ্ ফাতিহা তাকমিলা ও উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আলী রেজা রাজু কর্মস্থলে এসেছেন সকাল ৯ টা ২৫ মিনিটে। যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মতিউর রহমান কর্মস্থলে এসেছেন সকাল সারে ১০ টায়,সমাজ সেবা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ এসেছেন সকাল সারে ১০ টায়,পরিসংখ্যান কর্মকর্তা এসেছেন সকাল সারে ১০ টায়, জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবু জাফর এসেছেন সকাল ১১ টায়, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও এসেছেন বেলা ১১ টায়।আর উপজেলা আইসিটি অফিসার কর্মস্থলে এসেছেন বেলা সারে ১১ টায়। এছাড়া পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জুয়েল রানা প্রায় সময় কর্মস্থলে থাকেনই না।

সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে বেলা করে কর্মস্থলে আসছেন কেন জানতে চাইলে আইসিটি কর্মকর্তা আফিজার রহমান ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, এসব বিষয়ে কাছে কৈফিয়ত দিতে রাজি নই। আমরা সরকারি চাকরি করি, সরকার যদি এ ব্যাপারে সাসপেন্ডও করে তাতেও আপত্তি নেই।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ্ ফাতিহা তাকলিমা জানান, সরকারের নির্দেশনা আমাদের মানতেই হবে, যারা সরকারের নির্দেশনা মানছেন না, তাদের লিষ্ট করে ডিসি মহোদয় বরাবরে লিখিত অভিযোগ করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।