কুড়িগ্রামের উলিপুরে দ্রুত প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকার জনগণ। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাইপাস সড়ক বাস্তবায়ন কমিটি উলিপুরের আয়োজনে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের গুনাইগাছ স্কুল মোড়ে এবং উলিপুর মসজিদুল হুদা মোড়ে পৃথক পৃথক দু’টি স্থানে নারী ও পুরুষের সমন্বয়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন থেকে দাবি তোলা হয়, উলিপুরের হেলিপ্যাড হতে আমিন মোড় পর্যন্ত প্রস্তাবিত বাইপাস সড়কটি বাস্তবায়নের জন্য ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই একনেক সভায় অনুমোদনের পর ৬৮ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয় তৎকালীন সরকার। তন্মধ্যে ১৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা জমি অধিগ্রহনের জন্য বরাদ্দ আসে। নানা জটিলতায় থমকে আছে প্রকল্পটি।
উলিপুর পৌর শহরের চরম অবরুদ্ধ অবস্থা নিরসনে উলিপুর বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটিকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার দিয়ে জরুরী ভিত্তিতে বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন,
মোঃ সোলায়মান. রিজওয়ান হক, মোঃ খাইরুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ সরকার, আবু তালেব, আব্দুল হামিদ, হামিদুল, ওয়াদুদ, মামুন প্রমূখ।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা দাবি তোলেন, অনতিবিলম্বে প্রস্তাবিত উলিপুর হ্যালিপ্যাড হতে গুনাইগাছের আমিন মোড় পর্যন্ত উলিপুর বাইপাস সড়ক নির্মাণ কাজটি প্রায় ৩ বছরেও শুরু না হওয়ায় এ অঞ্চলের সামগ্রিক যোগাযোগ, জন নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, ইতোমধ্যে চিলমারী নৌ বন্দর আধুনিককরণ, রমনা রেলস্টেশনের আধুনিক রূপান্তরের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সেতু হয়ে ভারী যানবাহন চলাচল এবং ভারত বাংলাদেশ আন্ত:দেশীয় বাণিজ্যের প্রসারের কারণে এ অঞ্চলে যানবাহনের চাপ অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফলশ্রুতিতে দূর পাল্লার ভারী যানবাহনগুলো প্রতিদিন উলিপুর পৌর শহরের অত্যন্ত সংকীর্ণ ও অপ্রশস্ত্র প্রধান সড়কের বুক চিরে চলাচল করে। ফলে উলিপুর একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শহর ২৪ ঘন্টাই স্থবির হয়ে থাকছে। এই মহাসংকট থেকে উত্তরণে অনতিবিলম্বে উলিপুর বাইপাস সড়ক বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। উলিপুর শহরে ২৪ ঘন্টায় যানজটের কারণে জরুরি জনসেবা তথা স্বাস্থ্য সেবার এম্বুলেন্সগুলো থমকে যায়।
মানববন্ধনে বক্তারা আরো দাবি করেন, উলিপুর বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটিকে কোন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় না ফেলে সর্বোচ্চ জরুরি প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক। মানববন্ধন শেষে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য কুড়িগ্রাম-৩, সহকারী কমিশনার ভূমি এবং নির্বাহী প্রকৌশলী সড়ক ও জনপদ বিভাগ, কুড়িগ্রাম বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।