জ্যৈষ্ঠের তীব্র তাপ দাহ আর ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সৈয়দপুরের জনজীবন। প্রখর রোদ ও অস্বস্তিকর গরমে তৃষ্ণা মেটাতে এ উপজেলার মানুষ নির্ভর করছে প্রাকৃতিক খাদ্যের ওপর। অতিষ্ঠ গরমে তৃষ্ণা মেটাতে সর্বত্রই কদর বেড়েছে কচি তালশাঁস ও লেবুর। রসে ভরপুর আর ভেজালমুক্ত খাদ্য হওয়ায় সব বয়সী মানুষের পছন্দ কচি তাল শাঁস আর লেবুর সরবত।

সরেজমিনে দেখা যায়, সৈয়দপুর শহরের জিআরপি মোড়, পোষ্ট অফিস মোড়, আধুনিক প্লাজা মার্কেট ও ১ নং রেল ঘুমটি এলাকার রাস্তার পাশে কচি তাল ও লেবুর পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। তীব্র গরমে কিছুটা স্বস্তি পেতে সেখানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে পিপাসিতদের। সকাল ১১ টা থেকে রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা ওইসব দোকানে।

বিক্রেতারা জানান, জৈষ্ঠ্যমাসে সৈয়দপুর শহরে গরমের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। গরম যত বাড়ছে, তালের শাঁস ও লেবুর চাহিদা ও তেমনি বাড়ছে।আকার ভেদে প্রতিটি কচি তাল বিক্রি হচ্ছে ১৬ টাকা থেকে ২০ টাকা দরে। আর লেবু বিক্রি হচ্ছে আকার ভেদে ১২ টাকা থেকে ২০ টাকা হালি দরে।

শহরের জিআরপি মোড় এলাকায় তালের শাঁস কিনতে আসা সুমনা নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, সৈয়দপুরে এই প্রথম জৈষ্ঠ্যমাসে প্রচণ্ড রোদ আর ভ্যাপসা গরম বইছে। ডাবের তুলনায় তালের শাঁস ও লেবুর সরবত অনেক সাশ্রয়ী ও ভেজাল মুক্ত। এগুলো খেলে সহজেই তৃষ্ণা মেটে বলে জানান তিনি।

ব্যবসায়ী মনোয়ার হোসেন জানান, তারা নাটোর ও কুষ্টিয়া থেকে খুব ভোরে তাল শাস ও লেবু সংগ্রহ করে সৈয়দপুরে নিয়ে আসেন। তবে গত বছরের তুলনায় এবারে কচি তাল ও লেবুর দাম কিছুটা বেশি বলে জানান তিনি। তিনি বলেন গত বছর ১০০টি কাঁচা তাল ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় কিনেছিলাম কিন্তু এবছর তা কিনতে হয়েছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায়। তার ওপর রয়েছে পরিবহন খরচ। লেবুর দাম ও গত বছরের তুলনায় বেশি।

সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের ডাক্তার ওয়াসিম বারি জয় বলেন, কচি তালের শাঁসের প্রায় ৯০ শতাংশই জলীয় অংশ, যা তীব্র গরমে দ্রুত শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ভিটামিন ‘সি’। যা লিভার সুরক্ষিত রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজমের সমস্যা দূর করে। তিনি বলেন, সব চেয়ে ভালো হয়, ফুটপাতে এসব না খেয়ে কচি তাল ও লেবু বাসায় নিয়ে গিয়ে তাল শাঁস ও সরবত বানিয়ে খাওয়া।