বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণাকালে ঘোষণা দিয়েছিলো জয় পেলে অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে। বিধান সভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক বাংলাভাষী নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত করেছে। কেন্দ্র শাসন করা এ দলটির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এখন বাংলায় কথা বললেই তাদের ধরে ধরে সীমান্তে এনে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। দুর্বল দরিদ্র মানুষকে বিএসএফ সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠাচ্ছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে।

অনেককে বাংলাদেশে পুশইন করার জন্য সীমান্তের শূন্য রেখায় জড়ো করে রাখা হচ্ছে। অসহায় এসব মানুষ রোদে বৃষ্টিতে খোলা আকাশের নিচে মানবতর দিন কাটাচ্ছে। এতে করে সমস্যা প্রকটতর আকার ধারণ করছে। একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন সমস্যার সমাধান কুটনৈতিক ভাবে হতে হবে। জানা গেছে কয়েকটি সীমান্তে এখনও কিছু মানুষ শুন্য রেখায় অবস্থান করছে। বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে- স্থানীয় আইন শৃংখলা বাহিনী সীমান্ত বসবাস করা জনগণের প্রতিরোধের মুখে পুশইন ব্যর্থ হয়েছে।

অবৈধ পুশইন অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে টহল গোয়েন্দা নজরদারি এবং জন সম্পৃক্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তথ্য মতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৪১৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার জলসীমা, ৭৯ কিলোমিটার সুন্দরবন এলাকা। এসব সীমান্তের অনেক এলাকাই দুর্গম, আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। কোন ব্যক্তির বাংলাদেশী পরিচয় থাকলে আন্তর্জাতিক আইন ও বিদ্যমান কুটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে হস্তান্তর করা যেতে পারে। রাতের অন্ধকারে সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশের ভিতরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নই।

ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরে ভারতের সাথে ৭৮ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে প্রায় ৬৬ থেকে ৬৮ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। মানবপাচার কারী চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও জনসাধারণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রাত জেগে পাহারা দেয়। এই মুহুর্তে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সীমান্তের ওপারে কোন লোকজন দেখা যাচ্ছে না। তবে কোন কিছুকেই ছোট করে দেখা ঠিক না বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।