ভারতে জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্র, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার প্রস্তুতি এবং ভুয়া ভারতীয় নথিপত্র রাখার অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে কলকাতার একটি সেশনস কোর্ট। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) আদালত এ রায় ঘোষণা করে। প্রমাণের অভাবে আরেক অভিযুক্ত আব্দুল কালামকে খালাস দেয়া হয়েছে।খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আনোয়ার হোসেন ফারুক, মো. রুবেল, মাওলানা ইউসুফ শেখ, মো. শহিদুল ইসলাম এবং জাবিরুল ইসলাম। এই ছয়জনকে নয় বছর আগে কলকাতা পুলিশ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গ্রেপ্তার করেছিল। দণ্ডপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০-বি, ১২১, ১২১-এ, ১২২, ১২৩ এবং ১২৪-এ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করে আদালত। এসব ধারায় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, ষড়যন্ত্র এবং রাষ্ট্রদ্রোহের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিদেশি আইন (Foreigners Act) এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইন (Explosive Substances Act) অনুযায়ীও তাদের শাস্তি দেয়া হয়েছে।
মাওলানা ইউসুফ শেখকে ১২১এ ধারায় অতিরিক্ত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে, কারণ আদালত তার ভূমিকা ‘সাবভার্সিভ অ্যাকটিভিটিজ’-এ আরও গুরুতর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানের দায়ে বিদেশি আইন ১৪ ধারায়ও দণ্ডিত করা হয়েছে।
মামলার সূত্রপাত ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। তখন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসটিএফ উত্তর ২৪ পরগনায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের পর ছয়জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা বাংলাদেশভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জেএমবি (জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ)-এর সদস্য এবং ভারতের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলার পরিকল্পনা করছিল।
এসটিএফ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভুয়া ভারতীয় নথি, বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ এবং যোগাযোগ রেকর্ড পাওয়া গিয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর অবশেষে আদালত পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন-মুহম্মদ রুবেল, জাহিরুল ইসলাম, মুহম্মদ শহিদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন এবং মাওলানা ইউসুফ শেখ।
২০১৬ সালে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এই পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছিল। দীর্ঘ নয় বছর ধরে চলা এই মামলার রায় বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ঘোষণা করেন বিচারক রোহন সিংহ। মামলা চলাকালীন আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে নেন তারা।
কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসটিএফ) এই পাঁচজনকে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ, বসিরহাট এবং আসামের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। জানা গেছে, সাজাপ্রাপ্ত পাঁচ জঙ্গির মধ্যে তিনজন ভারতের বর্ধমান জেলার খাগড়াগড় বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত ছিলেন।