বানিজ্যিক শহর সৈয়দপুরের কাঁচাবাজারে সবজিতে ভরপুর হলেও দামে স্বস্তি নেই। শীত মৌসুমে প্রতিটি সবজির দাম তুলনামূলক কম পাওয়া গেলেও এবারে তা মিলছে না। কিনতে হচ্ছে চড়া দামে। এর ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতা সাধারণ।

ক্রেতাদের অভিযোগ, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে তদারকি থাকলেও সৈয়দপুরের বাজারে তদারকি না থাকায় ব্যবসায়িরা ইচ্ছেমতো প্রতিটি জিনিস চড়া দামে বিক্রি করছেন।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কম, তাই বেশি দামে শীতকালীন সবজি সহ প্রতিটি জিনিস বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। শনিবার শহরের পৌর সবজি মার্কেট, রেলওয়ে সবজি মার্কেট সহ দুইটি পাইকারি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সৈয়দপুর পৌর সবজি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, নতুন আলু ৫০ টাকা আর পুরাতন আলু ২৫-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা।

লাউ প্রতি পিছ বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা। এ ছাড়া কাঁচা পেঁপে ৩০, গোল বেগুন আকার ভেদে প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকা। মুলা বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। পটল, চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি। গাজর ১২০, শিম ১০০ টাকা। কাঁচামরিচ প্রকারভেদে ৬০-৭৯ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পিঁয়াজ ১৫০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, আদা ১৬০ টাকা, রসুন ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পৌর মার্কেটে সবজি কিনতে আসা দুলাল বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রাতারাতি আঙুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে। আর কৃষক ও ভোক্তা বরাবরই ঠকছে।

সৈয়দপুর শহরের খুচরা বাজারের ব্যবসায়ী আলী বলেন, সবজির সরবরাহ কম থাকায় তুলনামূলক দাম বেশি। তবে সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে বলে জানান তিনি।

রেলওয়ে বাজারে সবজি ব্যবসায়ী ওয়াহেদ তালুকদার বলেন, শীতের মৌসুম শুরু। অল্প দিনের মধ্যে শীতের সবজি সরবরাহ বাড়বে। সরবরাহ বাড়লে এই দাম থাকবে না। ফলে একটু বেশি দামে সবজি সহ লালশাক, কলমিশাক, পুঁইশাক, কুমড়ো শাক, মুলা শাক, পালং শাক, ধনেপাতাসহ সব সবজির দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

অপরদিকে বাজারে রুই ও কাতল আকারভেদে ২৮০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কৈ, তেলাপিয়া মাছ ১৮০-২৫০ টাকায় বিক্রি হলেও দেশি কৈ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে। শোল মাছ ৭০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা ও টাকি মাছ ২৫০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আসলাম ট্রেডার্সের মালিক আসলাম বলেন, পোলট্রির দাম তেমন একটা বাড়েনি। সোনালি মুরগী প্রতি কেজি ২৫০, বয়লার ২৬০ টাকা ও লাল লেয়ার ২৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।