ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় সরকারি নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। বৈধ লাইসেন্স বা কোনো প্রকার নিবন্ধন ছাড়াই এগুলোর সিংহভাগ পরিচালিত হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এলাকার প্রধান প্রধান বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পরিচালিত এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার ১৮টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে মাত্র ৫টি প্রতিষ্ঠানের বৈধ নিবন্ধন রয়েছে। বাকি ১৩টি প্রতিষ্ঠানই সম্পূর্ণ অবৈধভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

​জানা গেছে, নিবন্ধিত ৫টি প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল রোডের এ্যাপোলো ডিজিটাল ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, কলেজ রোডের গ্লোবাল ডায়াগনষ্টিক সেন্টার’ এবং কলেজ বাজার রোডের কেয়ার ডায়াগনষ্টিক সেন্টার,নিউ মডার্ণ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও আধুনিক নার্সিং হোম।

অপরদিকে উপজেলার হাসপাতাল রোড, কলেজ রোড এবং ঐতিহ্যবাহী বৈরচুনা ও লোহাগাড়া বাজার এলাকায় গড়ে ওঠা বাকি ১৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনো বৈধ কাগজপত্র বা নিবন্ধন নেই। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে নানা চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিভ্রান্ত করে সেবা দিয়ে আসছে এসব প্রতিষ্ঠান গুলো হলো, প্রাইম ডিজিটাল ডায়াগনষ্টিক সেন্টার,নিউ পপুলার ডায়াগনষ্টি সেন্টার,হিমালয় ডিজিটাল ডায়াগনষ্টি সেন্টার,সেবা ডিজিটাল ডায়াগনষ্টিক সেন্টার,নিউ পীরগঞ্জ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার,পপুলার ডায়াগনষ্টি সেন্টার,ফার্স্ট কেয়ার ডায়াগনষ্টিক সেন্টার,আশা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার,সেবা ফিজিওথেরাপি সেন্টার,ডা: মামুন পেইন কেয়ার সেন্টার,আদর্শ ক্লিনিক এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনষ্টিক সেন্টার,মাতৃসেবা ক্লিনিক এন্ড নার্সিং হোম,এবং একতা ক্লিনিক।

​স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, স্বাস্থ্য বিভাগের সঠিক তদারকি না থাকায় পীরগঞ্জের বেসরকারি চিকিৎসা খাত এখন অরক্ষিত। লাইসেন্সহীন এসব প্রতিষ্ঠানে দক্ষ জনবল, পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও জরুরি চিকিৎসার পরিবেশ নেই বললেই চলে। ফলে ভুল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অপচিকিৎসার শিকার হয়ে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা সাধারণ রোগীরা। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে, অন্যদিকে তেমনি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

​এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌর শহরের ভুক্তভোগী জানান, অবিলম্বে স্বাস্থ্য বিভাগের হস্তক্ষেপ এবং অবৈধ এই ১৩টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এই বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ কামাল আহাম্মেদ মুঠো ফোনে বলেন,আপাতত জুন ক্লোজিং এর কারণে সবাই ব্যাস্ত আগামী মাস থেকে প্রশাসন সহ এগুলোর বিষয়ে ব্যাবস্তা নেওয়া হবে।

সিভিল সার্জন ডাঃ আনিসুর রহমান মুঠো ফোনে বলেন,এগুলো অনেক সময় অনলাইনে আবেদন করে। আসলে কতগুলোর লাইসেন্স নেই সেটা আমার জানা নেই। সরাসরি দেখলে বলতে পারবো।