নাটোর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে নিজ চেম্বারে বসে থাকা অবস্থায় সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে আসা এক যুবকের রডের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন জেলার সাবেক সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) ও প্রবীণ আইনজীবী আসাদুল ইসলাম (৭২)। হামলায় তাঁর দুই হাত ও একটি পা ভেঙে গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বর্তমানে তিনি নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাবিল হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুর পৌনে ১টার দিকে নাটোর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর আদালতপাড়াজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

জেলা আইনজীবী সমিতি ও সদর থানা সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো নিজ চেম্বারে বসে কাজ করছিলেন প্রবীণ আইনজীবী আসাদুল ইসলাম। এ সময় গেরুয়া রঙের সন্ন্যাসীর পোশাক পরিহিত এক যুবক চেম্বারে প্রবেশ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে সঙ্গে থাকা লোহার রড দিয়ে আইনজীবীর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে শুরু করে।

হঠাৎ হামলায় আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে আসাদুল ইসলামের দুই হাত ও ডান পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। একপর্যায়ে হামলাকারীর ব্যবহৃত রডটিও ভেঙে যায়। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের আইনজীবী, সহকারী, মোহরার ও বিচারপ্রার্থীরা ছুটে এসে হামলাকারীকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে থানায় নিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় আসাদুল ইসলামকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে তাঁর দুই হাত ও পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। চিকিৎসকরা মাথায় আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত হতে সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দিয়েছেন।

নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, আহত আইনজীবীর দুই হাত ও পায়ে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মাথায় আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত হতে সিটি স্ক্যানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে।

প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী মৃন্ময় কুমার ঘোষ বলেন, “আমার চেম্বারটি সিনিয়র আইনজীবী আসাদুল ইসলামের পাশেই। তাঁর চিৎকার শুনে ছুটে গিয়ে দেখি হামলাকারী রড দিয়ে একের পর এক আঘাত করছে। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে দেখি আঘাতের তীব্রতায় রডটিও ভেঙে যায়। পরে অন্যান্য আইনজীবী ও মোহরাররা এসে হামলাকারীকে আটক করেন।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি রুহুল আমীন তালুকদার বলেন, “সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে এসে সাবেক সরকারি কৌঁসুলি আসাদুল ইসলামের ওপর পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। হামলাকারীকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ জানায়, আটক যুবকের নাম কাবিল হোসেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে করা একটি দেওয়ানি মামলার বাদী ছিলেন আইনজীবী আসাদুল ইসলাম। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি এই হামলা চালিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, “হামলাকারী বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় নাটোর আদালতপাড়ার আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। আইনজীবীরা আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।