আজ আমার আনন্দের দিন, আমি যে স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলাম সেই স্কুলের একজন শিক্ষক অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন। শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। গত ৬০ বছরে দেশের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হয়েছে। লেখাপড়ায় মেয়েরা অনেক এগিয়েছেন। আমাদের আমলে সেসময় এ সংখ্যা ছিলো একেবারে কম।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকালে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের মাগুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এসব কথা বলেন।
তিনি এ স্কুলে ৮ম শ্রেণির পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। এ অনুষ্ঠানে তাঁর আমলের শিক্ষক, বন্ধু-বান্ধবসহ নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, জেলা পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তনিমা জামান তন্বীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস সভাপতিত্ব করেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আজকের যারা ছাত্র ছাত্রী আছে তাদের জন্য আগামীতে প্রচুর সুযোগ রয়েছে। তাদের সঠিক লাইন দেখতে হবে সেই সঙ্গে ভালো পথে চলতে হবে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার কোনো বিকল্প নেই। তাদের মনোযোগী হতে হবে। পড়ালেখার কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই, অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। আগের থেকে এখন অনেক বেশি সুযোগ রয়েছে সেটি নিতে হলে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষকদের যথেষ্ট মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। আমি সেকথা সবখানে বলি। ছাত্ররা হচ্ছে সন্তানতূল্য তাদের দিকে নজর দিবেন। অনেক ছেলে-মেয়েও আমাদের গ্রামে বিএ পাস করে বসে আছে। আমাদের দেশের জনশক্তি রয়েছে সেটিকে প্রশিক্ষণ শিক্ষার মাধ্যমে যোগ্যতা সম্পূর্ণ করতে হবে।
বাবার চাকুরীর সুবাদে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ওই স্কুলে ১৯৬৪ সালে ৫ম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস জানান, তিনি যখন লেখাপড়া করতেন, তখন মো. আসাদ প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন। উপদেষ্টার লেখাপড়ার সাথী ও প্রিয়বন্ধু মহিউদ্দিন আজাদ পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বিষয়ে স্মৃতিরোমন্থন করে বলেন, ও ৮ম শ্রেণির পাঠ চুকিয়ে রংপুর ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজে ভর্তি হয়।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বাবা আব্দুল মান্নান নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া বাজারে অবস্থিত কাষ্টমস অ্যান্ড এ্যাকসাইজ অফিসে অফিসার হিসাবে কর্মরত ছিলেন।