নীলফামারীর সৈয়দপুরে অলিগলিতে চলছে মাদকের কেনাবেচা। শহরের ২০টির বেশি স্পটে মাদক কেনাবেচা হলেও পুলিশ প্রশাসন মাঝেমধ্যে সামান্য গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা জব্দ করলেও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারছেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী কজন মাদকসম্রাট পর্দার আড়ালে থেকে অসাধু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকজনের সাথে মাসিক অথবা সাপ্তাহিক চুক্তি থাকায় তারা তাদের ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে মদ ব্যবসায়ী রাজু, হাতিখানায় হেরোইন ও ইয়াবা ব্যবসায়ী ইসমাইল , নিচু কলোনির ইউসুফ পকেটমার, মুন্সিপাড়ার জাসদ অফিস-সংলগ্ন ইয়াবা ব্যবসায়ী ইমতিয়াজ, রেললাইন-সংলগ্ন গাজা ব্যবসায়ী দুলু, ইসলামবাগ এলাকার হেরোইন ব্যবসায়ী জহুরা, জাবেদ, আমেনা ও সেলিম, বাঙ্গালীপুর নিজপাড়া এলাকায় ফেনসিডিল ব্যবসায়ি সোহাগ ও হাতিখানা মহুয়া রেললাইন-সংলগ্ন হেরোইন ব্যবসায়ী জহুরা।
চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের নিযুক্ত করা বিক্রেতারা প্রতিদিন শহরের হাতিখানা কবরস্থান, রেললাইন এলাকা, রেলস্টেশন, রসুলপুর, গোলাহাট, মিস্ত্রিপাড়া, মুন্সিপাড়া জোড়াপুকুর, পুরাতন বাবুপাড়া, অফিসার্স কলোনি ডাকবাংলো-সংলগ্ন, শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ এলাকাসহ বাস টার্মিনাল ও আদানী মোড় এলাকায় মাদক বিক্রি করছে। মাদকের আখরা বসছে বাংগালী পুর নীজ পাড়ার কাল্লু হাজির বাড়ি সংলগ্ন নুরুন্নাহার ম্যাডামের এক ভাংগা ঘরে।
মাদকপল্লিতে পরিচিতি পেয়েছে শহরের হাতিখানা, মুন্সিপাড়া, বাঁশবাড়ি টালি মসজিদ সংলগ্ন ও ইসলামবাগ এলাকা। এসব এলাকায় প্রতিদিন মাদক কেনাবেচার হাট বসছে। পুলিশ প্রশাসন মাদক নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিলেও সৈয়দপুর থানা-পুলিশ ও মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের লোকজন বখরা আদায়ে ব্যস্ত বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। মাঝেমধ্যে নীলফামারী র্যাব-১৩ অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের মাদকের বড় চালানসহ আটক করলেও পুলিশের কৌশলগত চার্জশিটের বদৌলতে এসব মাদক ব্যবসায়ী অল্প দিনেই মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে।
হাতিখানা এলাকার ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের লোকজনযদি ঠিকভাবে তৎপর হয়, তাহলে সৈয়দপুর শহর সাত দিনের মধ্যে মাদকমুক্ত করা সম্ভব। ঘুষ বাণিজ্যের কারণে বন্ধ হচ্ছে না মাদকের বিস্তার। প্রায় প্রতিদিন আটক ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে দ- ও জরিমানা করেও থামছে না মাদকের ভয়াবহতা। নিধিরাম সরদারের ভূমিকায় মাদকদ্রব্য নির্মূল অধিদপ্তরের লোকজন জনবল সংকেটর দোহাই দিয়ে হাত পা গুটিয়ে থাকছেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, গত এক মাসে জুয়া, ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিল ব্যবসা ও সেবনের দায়ে একাধিক জনের জেল-জরিমানা করা হয়েছে।
সৈয়দপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) একেএম অহিদুন্নবী বলেন, জুয়া ও মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের সখ্যতার বিষয়টি সঠিক নয়।