নীলফামারী জেলায় পরিবহনে চাঁদাবাজি, উপ-কমিটি গঠন এবং শ্রমিক নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে নীলফামারী জেলা বাস-ট্রাক-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি নং-২২০)।

রোববার (১২ জুলাই) সকাল সারে ১১টা থেকে বেলা ১ টা পর্যন্ত সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা পরিবহন শ্রমিক, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা ওই মানববন্ধনে অংশ নেন। ওই সময় মুহুর্তেই সড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যায়। এর আগে শ্রমিক সংগঠনের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারক লিপি দেয়া হয়েছে।

সেখানে বক্তারা বলেন, নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি নং-৩৪৪৬)-এর নামে জেলার ৪ উপজেলার বাস কাউন্টার, স্ট্যান্ড ও সড়কে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলায় উপ-কমিটি গঠন করে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসবের প্রতিবাদ করলে শ্রমিকদের মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেন তারা।

সংগঠনের শ্রমিক নেতারা বলেন, বিষয়টি নিয়ে এর আগেও একাধিকবার শ্রম পরিচালক, রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩০ মার্চ, ১৭ মে ও ৭ জুলাই পৃথক পৃথক ভাবে অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নীলফামারী জেলা বাস-ট্রাক-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, একটি পক্ষ উপ-কমিটি গঠন করে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছে। বাধা দিলে শ্রমিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতন করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে জেলার পরিবহন খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। বন্ধ করে দেয়া হতে পারে সকল প্রকার যান চলাচল।

সংগঠনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা ১৯৭৮ সালে বৈধভাবে নিবন্ধিত সংগঠন হিসেবে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করছি। কিন্তু একটি পক্ষ অবৈধভাবে শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করে পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। আমরা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে আন্তঃজেলার বাস মিনিবাস মাইক্রবাস চলাচল বন্ধ করতে বাদ্ধ হবো।

স্মারক লিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ জুলাই নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি এলাকায় জোরপূর্বক চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে পরিবহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে মালিক-শ্রমিক বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

বৈঠকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু তারা পরবর্তীতে সেই নির্দেশকে তোয়াক্কা না করে পুনরায় চাদার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। নীলফামারী জেলার আটটি উপজেলার সঙ্গে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী সড়কপথে যাতায়াত করেন। বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদেরও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে বক্তারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন।