নাটোরের উত্তরা গণভবন থেকে দিঘাপতিয়া পিএন উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত মাত্র এক কিলোমিটার সড়কের তিনটি স্থানে বড় ধরনের ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা অংশগুলো সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এ সড়ক ব্যবহারকারীদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তরা গণভবনের সামনে দিয়ে যাওয়া এ সড়কটি দিঘাপতিয়া পিএন উচ্চ বিদ্যালয় হয়ে সিংড়া উপজেলার কালীগঞ্জ, নওগাঁ ও নলডাঙ্গার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ স্থাপন করেছে। প্রতিদিন শত শত মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ইজিবাইক, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন এ পথে চলাচল করে। একই সঙ্গে দিঘাপতিয়া পিএন উচ্চ বিদ্যালয়, উত্তরা কেজি স্কুলসহ আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রধান যাতায়াতের পথ এটি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিঘাপতিয়া বাজার এলাকায় সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় রাস্তার প্রস্থ কমে গেছে। ফলে যানবাহন চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি। এর মধ্যে বাজার চৌরাস্তা, উত্তরা কেজি স্কুলের সামনে এবং দিঘাপতিয়া পিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন পুকুরপাড়ে বড় বড় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

বর্ষাকালে এসব স্থানে পানি জমে থাকায় ভাঙনের গভীরতা বোঝা যায় না, ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কামনা মৃধা বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ও শিক্ষার্থী এ পথে চলাচল করে। দ্রুত ভাঙা অংশগুলো সংস্কার না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

হাগুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সজল আহমেদ বলেন, “সড়কটি এলজিইডির আওতাধীন। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা থাকলেও কার্যকর কোনো সংস্কার হয়নি। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা প্রয়োজন।

দিঘাপতিয়া পিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবাইয়া হক বলেন, “স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় খুব ভয় লাগে। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে পানি জমে থাকায় কোথায় ভাঙন আছে বোঝা যায় না।

উত্তরা কেজি স্কুলের শিক্ষার্থী নাজনীন আক্তার বলে, “প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যাই। ভাঙা জায়গাগুলো দ্রুত মেরামত করা হলে আমাদের চলাচল নিরাপদ হবে।

এ বিষয়ে নাটোর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন বলেন, “সড়কটির ভাঙা অংশগুলোর বিষয়ে আমরা অবগত আছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, সড়কের ভাঙা অংশ দ্রুত সংস্কার এবং বাজার এলাকার অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে রাস্তার স্বাভাবিক প্রস্থ ফিরিয়ে আনা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে এবং শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।