একটি স্বপ্নের, একটি বন্ধুত্বের, একটি ভালোবাসার নাম…
১৯৮৬ সালের সেই বিকেলটা হয়তো কারও কাছে ছিল আর দশটা দিনের মতোই। কিন্তু কয়েকজন স্বপ্নবাজ তরুণের কাছে সেটিই ছিল এক নতুন ইতিহাসের সূচনা।

Drums, Guitars, Key board, কয়েকটি কণ্ঠ, অগণিত স্বপ্ন আর অদম্য সাহস নিয়ে জন্ম নিয়েছিল প্রমিথিউস। সেই সময় ছিল না আধুনিক প্রযুক্তি, ছিল না সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ছিল না সহজ সুযোগ-সুবিধা। ছিল শুধু গানকে ভালোবাসার এক অদ্ভুত নেশা। দিনের শেষে পড়াশোনা, কাজ কিংবা অনন্যা ব্যস্ততা পেরিয়ে সবাই ছুটে আসত রিহার্সালে। ঘামের সঙ্গে মিশে থাকত হাসি, ভুলের সঙ্গে থাকত শেখা, আর প্রতিটি সুরে লুকিয়ে থাকত আগামী দিনের স্বপ্ন।

আহা চার দশক পেরিয়ে গেছে… কি করে ???
অনেক মুখ বদলেছে, অনেক পথ আলাদা হয়েছে, আজও আমাদের মাঝে আছে সবাই, কেউ হয়তো দূর আকাশের তারাদের সঙ্গে মিশে গেছে( যেমন রোমান Corona কালিন সময়ে হারিয়েছি এক সহ যোদ্ধা) কিন্তু প্রমিথিউস শুধু একটি ব্যান্ড নয় এটি একটি অনুভূতি, একটি পরিবার, একটি ইতিহাস।

এই ৪০ বছরে অসংখ্য মঞ্চ, অসংখ্য শ্রোতা, অসংখ্য স্মৃতি আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। সেই প্রতিটি মুহূর্ত আজও হৃদয়ের গভীরে অমলিন।

আজ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সকল সাবেক ও বর্তমান সদস্য, শুভানুধ্যায়ী, বন্ধু, আয়োজক এবং সেই সকল শ্রোতাদের, যাদের ভালোবাসা ছাড়া এই দীর্ঘ পথচলা কখনোই সম্ভব হতো না। প্রমিথিউস আমাদের শুধু গান শেখায়নি, শিখিয়েছে বন্ধুত্ব, শিখিয়েছে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে, শিখিয়েছে স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে।

সময় বদলায়, মানুষ বদলায়, প্রজন্ম বদলায়।

কিন্তু কিছু নাম কখনো পুরোনো হয় না। প্রমিথিউস তেমনই একটি নাম…
ভালোবাসা, আবেগ আর অসংখ্য স্মৃতির ৪০ বছর।
শুভ ৪০ বছর, প্রমিথিউস।
তোমার প্রতিটি সুর বেঁচে থাকুক আগামী প্রজন্মের হৃদয়ে।
তোমার আলোয় নতুন স্বপ্ন দেখুক আরও হাজারো তরুণ।
৪০ বছর প্রমিথিউস—
সুরের আগুন এখনও নিভে যায়নি, আর কোনোদিনও যাবে না।

সূত্র ঃ সংগ্রহ