বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার গনঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর সুবিধাবাদী দোষররা তাদের নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপির ও অনান্য দলের নেতার ছত্রছায়ায় এখনও সক্রিয়। বিএনপির চেয়ার পারসন খালেদা জিয়া গাড়ী বহরের আসামী মাসুদুর রহমান মাসুদ ওরফে ব্রিটিশ মাসুদ বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় বহাল তরিয়াতে রয়েছেন।

তিনি বিগত ফ্যসিষ্ট আওয়ামীলীগ সরকারের দোসর ছিলেন। ৩৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের কার্য্যকরী সদস্য ও বিটিসিএল এর কর্মচারী লীগ এর সভাপতি ছিল। বর্তমানে তিনি সুবিধাবাদী স্থানীয় বিএনপির এক নেতার আর্শিবাদে মগবাজার টিএনটি কলোনীর কল্যান সমিতির সেক্রেটারী।

মাসুদুর রহমান মাসুদ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের আহবায়ক ভিপি মোঃ হানিফের ছত্রছায়ায় বিটিসিএল ও মগবাজার টিএন্ডটি কলোনীতে অবৈধ কোয়াটার দখল, মাদক নিয়ন্ত্রন, বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কামেয় করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিটিসিএল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নে আহবায়ক ভিপি হানিফ এর রাজনৈতিক জীবনে বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট মন্ত্রীর বিশ^স্থ মগবাজার কলোনী প্রতিনিধি হাতিরঝিল থানা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ইকবাল হোসেন তুহিনের সাথে লিয়াজু করে চলতেন। তার বাসায় তুহিন গভির রাত পর্যন্ত রাজনৈতিক বৈঠক করতেন। ২০১৩ সালে সিটি করপেশন নির্বাচনে ৩৬ নং ওয়ার্ড ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের কমিশনার পদপ্রার্থী তৈমুর রেজা খোকনের পক্ষে ঘুড়ি মার্কা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়েছেন।

সূত্রে জানা যায়, নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক বিটিসিএল এর কর্মচারী ও মগবাজার টিএনটি কলোনী এলোটিবাসীরা বলেন, ভিপি হানিফ ওয়াকচার্জ কর্মচারী তিনি মগবাজার বিটিসিএল কলোনীর এফ-৫ নং কোয়াটার ফেব্রুয়ারীর ২০০৮ সাল হতে বর্তমান পর্যন্ত অবৈধভাবে বসবাস করে আসছেন। গত ১৮ বছর ধরে কোয়াটার দখল করে রেখেছেন। ফেব্রুয়ারী ২০০৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সরকারের রাজস্ববাবদ সাড়ে আঠারো লক্ষ টাকা পাওয়ানা রয়েছে।

তিনি মগবাজার বিটিসিএল কলোনীর অধিকাংশ কোয়াটার প্রায় ২৮টি বাসা তার বাহিনীর দখলে রয়েছে। এ থেকে তিনি এবং তার বাহিনী প্রতি মাসে তিন লক্ষ টাকা বহিরাগতদের ভাড়া দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়া মগবাজার বিটিসিএল কলোনীতে কাচা ঘর নির্মাণ ও বসবাসকারীদের কাছ থেকে কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে প্রতি মাসে চান্দা নেওয়া হচ্ছে। এই কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর সন্ত্রাসী নাদিম। মাদক নিয়ন্ত্রয়ন, সরকারী কোয়াটার দখল বানিজ্যের চান্দা নিয়ন্ত্রন করে এই সন্ত্রাসী নাদিম ও আওয়ামী লীগের দোসর খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে মামলাসহ একাধিক মামলার আসামী মুসুদুর রহমান মাসুদ ওরফে ব্রিটিশ মাসুদ সরাসরি জড়িত বলে জানায় বিটিসিএল কর্মচারী ও এলোটিবাসী।

বিটিটিএল অডিটোরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টার দায়িত্ব নিয়ে প্রতি মাসে দেড় লক্ষ টাকা সরকারি কোষাঘরে জমা না দিয়ে ভাগ বাটোয়ারা করে নিচ্ছে। বিটিসিএল মগবাজার কলোনীর বসবাসরত অবসর প্রাপ্ত কর্মচারী সৈয়দ আহম্মদ এর ঘর টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ঈমাম মোঃ আতিকের নিকট বিক্রি করেন, বিটিসিএল জামে মসজিদের মোহাজ্জিন লোকমান হোসেন ঘরটি বহিরাগতদের কাছে বিক্রি ও মোঃ খোকনের কাচা ঘরটি ৭০ হাজার টাকা বিনিময়ে বহিরাগতদের কাছে বিক্রি করে। আওলাদ হোসেন গাড়ি চালক তার কোয়াটারটি ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে মোস্তফাকে বরাদ্ধ করে দেন।

কর্মচারীরা বলে, ভিপি মোঃ হানিফ ক্ষতমা অবব্যবহার, সন্ত্রাসী ও পিস্তলের ভয় দেখিয়ে বিটিসিএলের কর্মচালী সংঘঠনটি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন রেজিঃ নং বি-১৯০০ স্বঘোষিত আহবায়ক হয়ে যান। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ৩১৭ (৪) ঘ বিধান বিদ্যমান গঠনতন্ত্র আহবায়ক কমিটি আইন ও গঠনতন্ত্র সম্মত নয় বলে শ্রম অধিদপ্তর অবৈধ বলে নব গঠত কমিটির নিকট একটি চিঠি প্রেরন করেন।

সূত্রে জানা যায়, চাকরি সংক্রন্ত মামলা প্রত্যাহার করে ১৯৫ জন ওয়ার্ক চার্জ কর্মচারী বিটিসিএলে যোগদান গ্রহন করলে ভিপি হানিফ তার ক্যাশিয়ার মোর্শেদ আলম মুন্সীকে দিয়ে প্রত্যেক কর্মচারীর কাছ থেকে ৫ হাজার করে চান্দা নেন। স্থায়ী পদে কর্মচারী আনুতোষিক প্রাপ্যতার বিষয়ে মন্ত্রনালয়ে সচিবকে উৎকোচ (ঘুষ) প্রদানে কর্মচারীর নিকট ৫০ হাজার করে ৫ হাজার কর্মচারী থেকে চান্দা তুলেন। ক্যাজুয়েল কর্মচারী বিটিসিএলে চাকুরীর জন্য ৩০০ জন থেকে টাকা নিয়ে ভিপি হানিফ মব সৃষ্টি করে প্রশাসনকে চাকুরী প্রদানে চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

টিটু চন্দ্র দাস বলেন, বিলোবযোগ্য পদে পদায়নের জন্য আব্দুস সোবহান মিয়া আমার নিকট ৫০ হাজার টাকা চান্দা দাবী করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে সোবহান মিয়া বলেন সংখ্যালঘু তোর গোপন অঙ্গ কেটে ফেলা ও লাথি মেরে ভারতে পাঠিয়ে দেব বলে হুমকি দেন। এব্যাপারে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছে।

এলাকাবাসী ও বিটিসিএল কর্মচারী জানায়, বিটিসিএলে টেন্ডারবাজী, চান্দাবাজী, বদলী, অডিটোরিয়াম দখল, কোয়াটার বদলী ও দখল, নির্মাননিত কাচা ঘর বিক্রি, মাদক নিয়ন্ত্রনে ভিপি মোঃ হানিফ ও তার সহযোগিরা এক ভয়ংকর আতঙ্কের নাম।

আব্দুস সোবহান মিয়া অভিযোগের ভিত্তিতে বলেন, টিটু চন্দ্র দাসের আনিত অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট। সে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি করেছে তাহা উদ্দেশ্যপ্রনিত। তার অভিযোগের বিরুদ্ধে বিটিসিএল এর ব্যবস্থপনা পরিচালকের নিকট তদন্তের জন্য আবেদন করেছি।

মোর্শেদ আলম মুন্সির বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে জানায়, ওয়ার্কচার্জ কর্মচারী বিটিসিএল এর যোগদানে কারো কাছ থেকে একটি টাকা চান্দা চাওয়া কোন যুক্তিকতা নেই। ওয়ার্কচার্জ কর্মচারীর পক্ষে কেউ যদি বলতে পারে বা প্রমান করতে পারে চান্দা চাওয়া হয়েছে তাহলে বিটিসি এল এর কর্তৃপক্ষ যে শাস্তি দিবে আমি মেনে নিব।

বিটিসিএলে বর্তমানে ১৯৫ জন ওয়ার্কচার্জ কর্মচারী নেই। আমরা ভিপি হানিফ সাহেবের নেতৃত্বে কর্মচারী দাবী দাওয়ার আন্দোলন করছি। আমাদের হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিটিসিএল এর সাবেক আমাদের এক নেতা তার অসৎ উদ্দেশ্যগুলো সফল না হওয়ায় আমরা তার অসৎ কাজে বাধা দেওয়ায় সে আমাদের নামে গুজব ছড়াচ্ছে।

বিএনপির চেয়ার পার্সন খালেদা জিয়া গাড়ী বহরে হালার আসামী মাসুদুর রহমান মাসুদ ওরফে ব্রিটিশ মাসুদ বলেন, খালেদা জিয়া গাড়ী বহরে মামলা আমি আসামী। এই মামলায় আমাকে উদ্দেশ্যপ্রনিতভাবে ফাসানো হয়েছে। মামলার আসামী হওয়ার পর লোক মুখে জানতে পারি আমাকে এই মামলার আসামী করা হয়েছে।

প্রতিবেদককে আরো জানায়, আপনি এই মামলার বাদী শিমুল বিশ^াস কে জিজ্ঞাস করেন। আমি খালেদা জিয়ার গাড়ী বহরে হামলায় ছিলাম কি না। মামলার বাদী আমাকে বলেছেন কিছু ব্যক্তি উদ্দেশ্যমূলকভাকে এই মামলায় আসামী করেছেন। প্রতিবেদককে তিনি বলেন, আমি শ্রমিক লীগের অন্তর্ভুক্ত সংগঠনের কোন পদে ছিলাম না। কিন্তু যেহেতু সরকারী চাকরী করি সরকারী দলের সংগঠনে থাকতে হয়। বিটিসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে সেই সময় ধানমন্ডি ৩২নাম্বারে বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছি। ৩৬ নং ওয়াড আওয়ামী লীগের মগবাজার বিটিসিএল কলোনী ইউনিটের সভাপতি পদে আমি ছিলাম না বা দায়িত্বে নেই বলে জানায়।

প্রতিবেদকের সাথে কথা বলে ভিপি হানিফ বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অসত্য, মিথ্যা, উদ্দেশ্যমূলক ও বানোয়াট। আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতি সাথে জড়িত। আমার আশে পাশের লোকগুলো আমার নাম ব্যবহার ও বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে মগবাজার বিটিসিএল কলোনীতে কোয়াটার দখল, চান্দাবাজী, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন নিয়েছে। এরা আমাদের দলের কেউ না।

কোয়াটার দখল বানিজ্য থেকে আমি একটি পয়সা পাইনা। বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ রেন্ট বাবদ যে অর্থ আমার কাছে পায় বলে দাবী করেন সেই দাবী কোন যুক্তিকতা নেই। কোয়াটার টি পূর্বে সমিতি পরে ক্লাব ছিল এখানে অপরাধীরা বিভিন্ন অপকর্ম করতো। আমি এদেরকে উচ্ছেদ ও ভাঙ্গাচড়া ভবনটি মেরামত করে আমি বসবাস শুরু করি।

বিটিসিএলের ওয়ার্কচার্জ ও ক্যাজুয়াল কর্মচারী কাছ থেকে একটি টাকা চান্দা নেওয়া হয়নি। যদি কেউ বা কোন কর্মচারী বলতে পারে আমি তার কাছে থেকে চান্দা চেয়েছি তাহলে কর্তৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নিবেন আমি তা মেনে নিব। বিলোবযোগ্য ওয়ার্কচার্জ ও ক্যাজুয়াল কর্মচারীর চাকরির নিশ্চয়তার ব্যবস্থা করেছি।

তাদের আপদ বিপদে সব সময় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছি। টিটু চন্দ্র দাসের নিকট ৫০ হাজার টাকা ও তার গোপন অঙ্গ কেটে ফেলা, লাথি মেরে ভারতে পাঠিয়ে দিবে বলে হুমকি দাবী করছে সে ব্যপারে আব্দুস সোবহান মিয়া কাছ থেকে জানতে পারি সে আমাকে বলেন, টিটু চন্দ্র দাসের দাবী মিথ্যা ও বানোয়াট।

খালেদা জিয়ার গাড়ী বহরে অবশ্যই সেই দিন হামলা হয়েছিল এব্যপারে হাতির জিল থানায় মামলা হয়েছে। সেই মামলায় মাসুদুর রহমান মাসুদ ওরফে ব্রিটিশ মাসুদ ২৩ নাম্বার আসামী করা হয় কিন্তু সেই মামলায় মাসুদকে চক্রান্তকারীরা উদ্দেশ্যমূলভাবে তাকে ফাসানো হয়েছে। মাসুদুর রহমান মাসুদ পূর্বে আওয়ামী লীগ করেছে কিনা আমি জানিনা, কিন্তু ২০১৩ সালের পর সে বিএনপিতে যোগদান করে।