রংপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে| কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে| সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে অনুগত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বসানোসহ ১৪ টি সুনিদিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে|

অভিযোগে প্রকাশ, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণের পরই অধ্যক্ষ মোঃ রঞ্জু মিয়া তাঁর বড় ভাই ইলেকট্রিশিয়ান কামরুজ্জামান, প্রভাষক মাহমুদ হাসান ও জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পলাশ সরকারকে সাথে নিয়ে মিলেমিশে কলেজে একচ্ছত্র অনিয়ম-দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেছেন|

কলেজটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মাণ শেষে উন্নতমানের কম্পিউটার, রাউটার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ আসবাবপত্র সরবরাহ করা হয়| অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পরই ৪০টি কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক, মাদারবোর্ড ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরিয়ে ফেলেন|

শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট ব্যবহার সুবিধার্থে ৪০টি ওয়াটারপ্রুফ রাউটার নষ্ট দেখিয়ে বিক্রি করে নিম্নমানের রাউটার স্থাপন করা হয়েছে| এছাড়াও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পানির পাম্প মেরামতসহ বিভিন্ন খাতে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করেছে| তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে উইভিং, স্পিনিং শেড ও টেস্টিং ল্যাবের কয়েক কোটি টাকার যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে পড়ে আছে|

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এ্যাপারেল বিভাগের প্রায় দুই লক্ষ টাকা মূল্যের একটি অত্যাধুনিক ‘রেজার’ ল্যাপটপের হদিস মিলছে না| অভিযোগ রয়েছে, এটি তার আপন ভাইয়ের মাধ্যমে সরিয়ে ফেলেছেন| অভিজ্ঞ শিক্ষকদের কৌশলে বদলি করে নিজের অনুগত শিক্ষক-কর্মচারী দিয়ে কলেজ পরিচালনা করছেন|

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক-কর্মচারী বলেন, “অধ্যক্ষ ও তার সিন্ডিকেটের কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান দিন-দিন নিম্নমানের হচ্ছে|

অধ্যক্ষ মোঃ রঞ্জু মিয়া তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যাদের স্বার্থের ব্যাঘাত হয়েছে, তারাই অভিযোগ করেছে| কম্পিউটারগুলো না চলার কারণে আমি কিছু যন্ত্রাংশ লাগিয়েছি| রাউটার গুলো শিক্ষার্থীরা সুবিধাজনক স্থানে স্থাপন করেছে|

যে কম্পিউটারের হদিস নেই, সেটি ডিপার্টমেন্টকে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি| তিনি তার ভাই ইলেকট্রিশিয়ান কামরুজ্জামানের ব্যাপারে বলেন, আমি কাজের ¯^চ্ছতা, বিশ্বাস ও জবাবদিহিতার কারণে জন্য তাকে দিয়ে কাজ করেছি|