বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে এক নারী বিয়ে গোপন রেখে প্রতারণা, দীর্ঘদিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, পরবর্তীতে আইনি প্রতিকার চাওয়ার উদ্যোগ নিলে তাকে ভয়ভীতি দেখাতে ও নীরব রাখতে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে পরিচয়ের পর অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও ভুক্তভোগীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে পারিবারিক সম্মতিতে বাগদান সম্পন্ন হয় এবং পরে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাদের বিয়ে হয় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সরকারি চাকরির অজুহাত দেখিয়ে বিয়ের নিবন্ধন বা কাবিন সম্পন্ন না করে পরে নিবন্ধনের আশ্বাস দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, বিয়ের পর তাকে সামাজিক স্বীকৃতি না দিয়ে আলাদা বাসায় রাখা হতো এবং নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, সম্পর্কের একপর্যায়ে তিনি গর্ভবতী হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা সন্তান গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান এবং গর্ভপাতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গর্ভপাতে রাজি না হওয়ায় তাকে ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গর্ভপাত করানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক জটিলতায় তিনি মৃত্যুঝুঁকিতে পড়েছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিলে সম্পর্কের অবসানের পর তিনি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিজের প্রভাব খাটিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেন। এসব মামলা হয়রানিমূলক এবং তাকে বিচারপ্রক্রিয়া থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, হাসপাতালের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট, চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ এবং অন্যান্য মেডিকেল রেকর্ড এ ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এসব তথ্যের সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগগুলো তদন্তে সত্য প্রমাণিত হলে তা দণ্ডবিধি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং প্রযোজ্য পারিবারিক আইনের আওতায় বিচারযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা হোক এবং তদন্তে যে পক্ষ দায়ী প্রমাণিত হবে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।