টানা বৃষ্টির কারনে সরবরাহ কমে যাওয়ার অজুহাতে নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০০ টাকায়। ২/৩ টি সবজি ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির দামই বেড়েছে। বুধবার ( ২২ জুলাই) সকালে সৈয়দপুর শহরের আধুনিক পৌর সবজি বাজার ও রেলওয়ে গেট বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
আধুনিক পৌর সবজি বাজারের ব্যবসায়ি আলী রেজা জানান, কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে সৈয়দপুরের সবজি আড়তে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। দিনাজপুরের খানসামা, পাকের হাট, নীলফামারীর ৬ উপজেলার কৃষক সহ সৈয়দপুরের কৃষকরা তাদের সবজিবাহী পিক-আপ, রিকসা ভ্যান আড়তে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেকটা কমে গেছে।
ভারী বৃষ্টিতে অনেক এলাকার সবজির খেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ৪০ শতাংশ উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর কারনে বাজারে সরবরাহ অর্ধেকে নেমেছে বলে জানা যায়।
সৈয়দপুর আধুনিক পৌর সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। করলার দাম ৮০ টাকা, পটোল ৬০ টাকায়, ঢেঁড়স ৮০ টাকায়, ঝিঙা ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা ও ধনে পাতা ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহ খানিক আগের তুলনায় এসব সবজির দাম প্রতি কেজিতে ২০টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
গত ৭ দিন আগেও একেকটি লাউ বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকায়, কিন্তু বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে আকার ভেদে ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকায়। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, গাজর ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিম ৪৪ টাকা হালি, সোনালী মুরগী ৩০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগী ২২০ টাকা।আর দেশি মুরগী সারে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস সারে ৭০০ টাকা আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা কেজি দরে।
রেলওয়ে গেট বাজারের আনিস নামের এক সবজি বিক্রেতা জানান, কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে সৈয়দপুরে সবজির সরবরাহ হয়েছে এবং হচ্ছে প্রায় অর্ধেক। যেসব এলাকায় সবজির চাষাবাদ বেশি, সেসব এলাকা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আবাদ হয়েছে প্রায় অর্ধেক। আর একারনেই সবজির সংকট দেখা দিয়েছে। তবে বৃষ্টির পানি শুকিয়ে গেলেই সবজির দাম কমতে পারে বলে জানান তিনি।
এমএ করিম মিষ্টার নামের এক ক্রেতা বলেন, সরবরাহ সংকটের কথা বলে কিছু ব্যবসায়ী দিগুণ মুনাফার জন্য সবজি প্রতি ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন। ফলে নিম্ন মধ্য বিত্ত ক্রেতাদের নাভিশ্বাস অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।