নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে গড়ে উঠেছে সৌদি আরবের দুম্বার খামার। পশু পালন করে স্বাবলম্বী যে হওয়া যায়, তার জ্বলন্ত প্রমান দেখিয়েছেন রবিউল ইসলাম কাজল নামের এক খামারি। সখের দুম্বা পালন করে বাণিজ্যিকে গিয়ে তার এই সাফল্য। খামারি কাজলের গ্রামের বাড়ি সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়ন এর কাঠারি পাড়ার ৬ নং ওয়ার্ডে।
দুম্বা খামারি রবিউল ইসলাম কাজল জানান, বাবার রেখে যাওয়া জমিতে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন। ছোট বেলা থেকেই তিনি কৃষি কাজের সাথে জড়িত। ধান, পাট সহ সবজি চাষাবাদ করেছেন তিনি। কিন্তু লাভ তেমন একটা হয়নি। ২০১৯ সালে খামারি কাজলের এক ভাই সৌদি আরবে চলে যান। ২০২০ সালে প্রবাসি ওই ভাই চাষাবাদের পাশাপাশি দুম্বা পালন করার পরামর্শ দেন এবং ৬ লাখ টাকা পাঠিয়ে দেন কাজলকে। ২০২১ সালে খামারি কাজল ঢাকা থেকে ৮ টি দুম্বা নিয়ে আসেন। এরপর বাড়ির ভিটার জমির ওপর একটি টিনের ঘর নির্মাণ করেন। সখের বসে তিনি দুম্বা পালন শুরু করলেও দুম্বা গুলো ৭ মাসে ৮টি বাচ্চা দিলে তার খামার ভরে যায় দুম্বা দিয়ে। বর্তমানে তাঁর খামারে ৬০ টি দুম্বা, আর ১০ টি ছাগল রয়েছে। বড় দুম্বা গুলোর দাম উঠেছে ৩ লাখ লাখ টাকা থেকে সারে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। আর ছোট বাচ্চা দুম্বা ১ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, গত ৩ বছর থেকে সেগুলো বিক্রি করতে শুরু করেছেন। দুম্বা, পালনে বছরে খরচ হয় ১২ লাখ টাকা। আর বিক্রি হচ্ছে ৩২ লাখের ও বেশি। তিনি বলেন, মরুভূমির এসব দুম্বার রোগ বালাই নেই বললেই চলে। শুধু যত্ন সহকারে পালন করলে আগামীতে সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে ৩০ লাখ টাকার ও বেশি আয় করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, দুম্বা গুলো গরু,ছাগল ও ভেড়ার মতোই সব খায়। তবে ওই খাবার গুলো চিঠা গুড়ের সাথে মেখে ৬/৭ ঘন্টা ড্রামে রাখার পর খাওয়ালে অল্প দিনেই মোটা হয়ে যায়। আর দেখতেও হয় সুন্দর। তিনি আরো বলেন, এই মুহূর্তে যদি দুম্বা গুলো গড়ে আড়াই লাখ টাকা করে বিক্রি করা হয় তাহলে মুল্য পাওয়া যাবে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। দুম্বা গুলো ভালো জাতের ও দেখতে সুন্দর হওয়ায় তা অনেকেই কিনতে আসছেন এবং দুম্বা পালনের আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
খামারি কাজল বলেন, গত বছর খানিকের মধ্যে নীলফামারী, রংপুর, বগুড়া ও চট্রগ্রামের ৫-৬ জন যুবক তার ব্যবসার সাফল্য দেখে তারাও দুম্বা কিনে নিয়ে গেছেন খামার করার জন্য। এছাড়া অনেকেই খামার করার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের অনেককেই দেখছি ও শুনছি, তারা লাখ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে কামলা দিতে প্রস্তুত। তারা যদি বিদেশে কামলা না দিয়ে দেশেই ওই টাকা দিয়ে বড় ধরনের খামার করে তাহলে শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত যুবককে সঙ্গে নিয়ে নিজে যেমন ৪/৫ বছরে কোটি পতি হবেন, অন্য দিকে খামারে চাকরি করে বেকাররাও নিজের পায় দাঁড়াতে পারবেন।
তাছাড়া যাদের অর্থ সম্পদ নেই, সরকার যদি তাদের এককালীন মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে দুম্বা পালনের পরামর্শ দিতেন তাহলে ৫/৭ বছরে দেশে বেকারত্ব থাকতো না। এতে করে একদিকে যেমন দেশে বেকারের সংখ্যা কমে যাবে অন্য দিকে সরকার পাবেন মোটা অঙ্কের রাজস্ব। গড়ে উঠবে বেকার মুক্ত দেশ।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার. আবু কায়েস বিন আজিজ বলেন, দুম্বা পালন আসলেই লাভজনক। দুম্বার দাম বেশি হলেও তাদের রোগ বালাই নেই বললেই চলে। চাকরির পিছনে না ছুটে শিক্ষিত যুবকরা কিছু টাকা সংগ্রহ করে এ ব্যবসা শুরু করলে অল্প দিনেই নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন এবং ওই খামারে যারা চাকরি করবেন তারাও স্বাবলম্বী হতে পারবেন বলে জানান তিনি।