দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। তাদের অভিযোগ, কয়েক মাস আগের তুলনায় প্রায় প্রতিটি গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুণ বা তারও বেশি এসেছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, হিলি সাব-জোনাল অফিস কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমানে লোডশেডিং কম থাকায় বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে এবং বিদ্যুতের ইউনিট মূল্যও আগের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়ায় বিল বেশি আসছে।
হিলি সাব-জোনাল অফিসে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি। তবে শুধু বিল জমা দিতেই নয়, অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ নিয়েও অনেক গ্রাহক এজিএমের কক্ষে ভিড় করছেন। বিল হাতে নিয়ে একের পর এক গ্রাহক জানতে চাইছেন, হঠাৎ কেন এত বেশি বিল এসেছে?
কাটলা গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা বিপ্লব হোসেন বলেন, পল্লী বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিলে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। দুই মাস আগেও আমার বিদ্যুৎ বিল ছিল ২ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে। গত মাসে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭০০ টাকা, আর চলতি মাসে এসেছে ৭ হাজার টাকারও বেশি। এভাবে বিল বাড়তে থাকলে বিদ্যুৎ ব্যবহার করাই কঠিন হয়ে যাবে।
হিলি বাজারের বাসনপট্টির ব্যবসায়ী মেহেদী, পলাশ ও আপেলসহ কয়েকজন জানান, তাদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে কোনো পরিবর্তন না এলেও বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। তারা বলেন, আগেও যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছি, এখনও একই পরিমাণ ব্যবহার করছি। তাহলে হঠাৎ করে বিল এত বেশি কেন? আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চাই।
বিল পরিশোধ করতে আসা জুয়েল, মুর্তজা, মফিদুল, আজাহার আলীসহ আরও অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেন, পল্লী বিদ্যুৎ যেন ইচ্ছেমতো বিল তৈরি করছে। সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে বিদ্যুৎ বিল। এভাবে চলতে থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট কবির উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, এই অফিসে নানা ধরনের অনিয়ম রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে মিটারের রিডিং নেওয়া হয় না। ফলে একসঙ্গে বেশি ইউনিট যোগ হয়ে অতিরিক্ত বিল আসে। আমরা চাই, নিয়মিত রিডিং গ্রহণ ও বিলিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক।
এ বিষয়ে হিলি সাব-জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী বলেন, বর্তমানে লোডশেডিং কম থাকায় বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুতের ইউনিট মূল্যও আগের তুলনায় বেড়েছে। এ কারণে অনেকের বিল বেশি আসতে পারে। তবে কোনো গ্রাহকের মিটারের রিডিং বা বিলে অসঙ্গতি থাকলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যুৎ বিলের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির অভিযোগে হিলিবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। গ্রাহকদের দাবি, প্রকৃত ব্যবহার অনুযায়ী সঠিক বিল নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষ অযৌক্তিক আর্থিক চাপের মুখে না পড়েন।