কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া মাঝপাড়ায় অস্ত্র আনতে গিয়ে স্থানীয় জনতার হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন দুই ব্যক্তি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের আটক করে। এ সময় তাঁদের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ থেকে একটি ভাঙা বন্দুক উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা।

আটক ব্যক্তিরা হলেন কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়া এলাকার মৃত তালেব আলীর ছেলে শাজাহান এবং লাহিনী বটতলা এলাকার আকুলের ছেলে সবুজ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক দুই ব্যক্তি ঝাউদিয়া মাঝপাড়া এলাকার মজিদ মেম্বার নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি অস্ত্র কিনতে সেখানে যান। এ সময় তাঁদের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় জনতা তাঁদের আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে খবর পেয়ে ইবি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে হেফাজতে নেয়। তাঁদের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ তল্লাশি করে একটি ভাঙা বন্দুক উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় আটক দুই ব্যক্তিকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা মজিদ মেম্বারের কাছ থেকে বন্দুকটি নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে ভিডিওতে শোনা যায়। তবে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তদন্ত শেষে জানা যাবে।

ঘটনার পর ঝাউদিয়া ও আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কুষ্টিয়ার আলোচিত নান্দিয়ার বিলকে কেন্দ্র করে এলাকায় আবারও অবৈধ অস্ত্রের আনাগোনা বাড়ছে। অতীতে ওই বিলের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে একাধিক সহিংস ঘটনায় বহু প্রাণহানির নজির রয়েছে। নতুন করে অস্ত্রের লেনদেনের খবর ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, “ঘটনার নেপথ্যের কারণ, অস্ত্রটির প্রকৃত উৎস এবং এ ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”