দর্শকদের বাঁধভাঙা জোয়ার, টানটান উত্তেজনা আর প্রতিটি পাস ও আক্রমণের সঙ্গে পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে গগনবিদারী গর্জন। জাতীয় পর্যায়ের খেলায়ও সাধারণত যে জনস্রোত সচরাচর দেখা যায় না, আজ কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম সাক্ষী হলো ঠিক তেমনি এক ঐতিহাসিক রূপকথার। জেলা পরিষদ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর স্বপ্নের ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল কুষ্টিয়া সদর একাদশ এবং কুষ্টিয়া পৌর একাদশ।জেলা পরিষদ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর এই ফাইনাল ম্যাচে কুষ্টিয়া সদর একাদশকে ১-০ গোলে পরাজিত করে শিরোপা জিতেছে কুষ্টিয়া পৌরসভা একাদশ।

উৎসবমুখর পরিবেশে শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ও পৌরসভা ফুটবল টিমের অংশ গ্রহনে খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান। এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভার:) আব্দুল হাই সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য বশিরুল আলম চাঁদ, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীমউল হাসান অপু, পৌর বিএনপির সভাপতি এ কে বিশ্বাস বাবু ও সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন, জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বিসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এদিকে গ্যালারিতে হাজার হাজার দর্শক খেলাটি উপভোগ করেন।

টানটান উত্তেজনাপূর্ণ এ লড়াইয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ফুটবল দলকে শেষ মুহূর্তে ১-০ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়নের গৌরব অর্জন করেছে কুষ্টিয়া পৌরসভা ফুটবল দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। নির্ধারিত সময়জুড়ে একাধিক সুযোগ সৃষ্টি হলেও গোলের দেখা মেলেনি। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পৌরসভা ফুটবল দলের একটি দুর্দান্ত আক্রমণ থেকে জয়সূচক গোল আসে। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়েন খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা।

খেলা শেষে বিজয়ী দলের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের অতিথিরা। এছাড়া সেরা খেলোয়াড়দের জন্য আলাদা পুরুস্কারের ব্যবস্থা করা হয়।

এ সময় প্রধান অতিথি তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, খেলাধুলা তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব এবং দলগত চেতনা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জেলা পরিষদের এ আয়োজনকে স্বাগত জানিয়ে খেলোয়াড় ও দর্শকরা ভবিষ্যতেও এমন টুর্নামেন্ট নিয়মিত আয়োজনের আহব্বান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, ফুটবল আমাদের শেখায়, ব্যক্তিগত দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও দলগত সহযোগিতা ছাড়া বড় কোনো অর্জন সম্ভব নয়। মাঠে প্রতিটি খেলোয়াড় নিজের দায়িত্ব পালন করে বলেই একটি দল বিজয়ী হয়।

এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, একটি ফাইনাল ম্যাচ শুধু জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়, এটি অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা, দলগত ঐক্য এবং আত্মবিশ্বাসের এক অনন্য শিক্ষা। আজকের এই ম্যাচ থেকে আগামী প্রজন্মের তরুণরা শিখতে পারে যে, সাফল্য একদিনে আসে না; কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত অনুশীলন এবং লক্ষ্য অর্জনের অদম্য ইচ্ছাই একজন মানুষকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেয়।

আমাদের তরুণদের উচিত খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ শরীর, সুন্দর মন এবং নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে তোলা। তারা যদি খেলাধুলার চেতনা—সততা, শৃঙ্খলা, পরিশ্রম ও দেশপ্রেম—নিজেদের জীবনে ধারণ করতে পারে, তবে তারাই ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী, সুশৃঙ্খল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরো বলেন, আজকের ফাইনাল ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উপভোগ্য। দুই দলই অসাধারণ নৈপুণ্য, শৃঙ্খলা এবং ক্রীড়াসুলভ মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে। বিজয়ী দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই, পাশাপাশি রানার্সআপ দলকেও তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ধন্যবাদ জানাই।

এদিকে জেলা পরিষদের পক্ষে আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, “কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরে সকলকে ধন্যবাদ জানাই। জেলা পরিষদ ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখবে, যাতে জেলার আরও বেশি প্রতিভাবান ফুটবলার নিজেদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পায় এবং জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করার পথ তৈরি হয়।