ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও কথিত অবৈধ হামলার মুখে ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার বরাতে পার্সটুডে জানিয়েছে, বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান নিজের অধিকার, জাতীয় স্বার্থ এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সব ধরনের সক্ষমতা ব্যবহার করবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা, অবৈধ হুমকি এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলাকে জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ‘আগ্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নীরবতা এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে বলেছে, এ ধরনের অবস্থান সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আইনি দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, হরমুজ প্রণালিকে অস্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকা রেখেছে এবং জাহাজ চলাচল নিয়ে বিভিন্ন অজুহাতকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ইরান জানিয়েছে, তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দেশের স্বাধীনতা, জাতীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অটল থাকবে। পাশাপাশি, আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা নিজেদের ভূখণ্ড বা অবকাঠামো ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হামলায় ব্যবহারের সুযোগ না দেয়।

আরাকচির সতর্কবার্তা

একই প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে টেলিফোনে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

আরাকচি বলেন, ইরানের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় দেশটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যেকোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ, অথবা এ ধরনের পদক্ষেপে কোনো আঞ্চলিক দেশের সহযোগিতা, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে ‘দৃঢ় ও সমানুপাতিক’ জবাবের মুখোমুখি হবে। তাঁর মতে, এমন পদক্ষেপের সব ধরনের পরিণতির দায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকেই বহন করতে হবে।