সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সোনালী চেলা এলাকার মরা চেলার কলাবাগান সংলগ্ন নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় গ্রামবাসী ও নৌ পুলিশের যৌথ অভিযানে ২২টি অবৈধ ড্রেজার (লিস্টার) মেশিন ও সংশ্লিষ্ট নৌকা জব্দ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিল। বিষয়টি টের পেয়ে সোনাপুর কলাবাগান, নাছিমপুর বাজার এলাকার বালু ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং বালু উত্তোলনকারীদের প্রতিরোধ করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী ২২টি ড্রেজার মেশিন ও নৌকা আটক করে রাখেন।

খবর পেয়ে ছাতক উপজেলা প্রশাসন ও নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জব্দকৃত ড্রেজার ও নৌকাগুলো নিজেদের হেফাজতে নেয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র রাতের আঁধারে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, তীরভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং আশপাশের কৃষিজমি, বসতভিটা ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। তারা অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নদী রক্ষা ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। জব্দকৃত ২২টি ড্রেজার মেশিন ও নৌকার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। প্রশাসনের এ অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দারা সন্তোষ প্রকাশ করে অবৈধ বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধে নিয়মিত নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

এব‌্যাপা‌রে ছাতক থানার ও‌সি মিজানুর রহমান এসব ঘটনার সত‌্যতা স্বীকার ক‌রে ব‌লেন নৌ পু‌লিশ এসব ড্রেজার আটক ক‌রেছে। এব‌্যাপা‌রে নৌ পু‌লি‌শের ইনচাজ আনোয়ার হো‌সেনকে একা‌ধিকবার ফোন কর‌লে তি‌নি মোবাইল ধ‌রে‌নি।