সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর একটি থানা। ২০০১ সালে চৌহালীর ২টি, শাহজাদপুর উপজেলার ২টি এবং বেলকুচি উপজেলার ১টিসহ মোট ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে এনায়েতপুর থানা প্রতিষ্ঠিত হয় যার আয়তন ১৫৬.৭২ বর্গকিলোমিটার। এটি উত্তর-পশ্চিমে যমুনা নদীর তীরে যমুনা কাছে অবস্থিত। আর এই থানাতেই ঘটে ২০২৪ সালের ৪ আগষ্ট এক নারকীয় ঘটনা। দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার বৈষম্য বিরোধি আন্দোলনের সময় এই থানাতে ছাত্র-জনতার আক্রমণে হত্যার শিকার হন ১৫ পুলিশ সদস্য। অপরদিকে নিহত হন আন্দোলনকারি ৩ শিক্ষার্থী। শুধূ পুলিশ হত্যা না,পুরো থানা ক্যাম্পাস গান পাউডার দিয়ে জ¦ালীয়ে দেওয়ার পর লুটকরা হয় অস্ত্র ও গোলা বারুদ।
ধ্বসংস করা হয় প্রায় সাড়ে কোটি টাকার সম্পদ। ঘটনার পর থেকে টানা ৬দিন থানার কোন প্রকার কার্যক্রম চলেনি। প্রায় ১ মাস এভাবে চলার পর পরবর্তিতে সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে সংষ্কার কাজ করে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার অবস্থা তৈরী হলেও আজো কাটেনি সেই ভয়াল দিনের আতংক। বর্তমান কর্মরত পুলিশদের মাঝে সেই সময়কার ঘটনা অনেকেই গল্পকারে বলেছে। চোখের সামনে পিটিয়ে মৃত্যু নিশ্চিক করা,গাছে ঝুলিয়ে রাখা,অস্ত্র লুটপাটের সকল দৃশ্য এখনও অনেকের চোখে ছবির মতো ভেসে ওঠে।
যা ঘটেছিলো সেদিন ঃ
২০২৪ সালের ৪ আগষ্ট সেদিন ছিলো রবিবার সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় ৩য় দফায় বিক্ষোভকারীদের হামলার পর আত্মসমর্পণ করতে চেয়েছিলেন কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় যে যাঁর মতো দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন কর্তব্যরত প্রায় ৪০ জন পুলিশ সদস্য। তাঁদের কেউ থানার ছাদে, কেউ পাশের বাড়িতে, কেউ শৌচাগারে, কেউবা জঙ্গলে আশ্রয় নেন।
সেখান থেকেই খুঁজে এনে একে একে ১৪ জনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে আন্দোলনকারীরা। তবে এলাকাবাসীর কাছে অপরিচিত হামলাকারীরা। এনায়েতপুর থানার আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এমনটি জানাগেছে। সিরাজগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৩০-৩২ কিলোমিটার দূরে চৌহালী উপজেলার শেষ সীমানায় এ থানার অবস্থান।
সেই সময় কর্মস্থলে থাকা থানার পুলিশ পরিদর্শক শাহিনুর আলম গণমাধ্যমকে বলেছিলেন,ঘটনার দিন রবিবার বেলা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রথমে এনায়েতপুর কেজির মোড় এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল এসে থানার মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এরপর আমরা তাদের অনুরোধ করে বলতে থাকি যে এটি জনগণের প্রতিষ্ঠান, আমরা আপনাদের শত্রু নই, কাজেই আপনারা এখানে এই ইটপাটকেল নিক্ষেপ বন্ধ করুন। অন্যথায় আমরা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।
আমাদের এমন অনুরোধে তারা এলাকা ছেড়ে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পরে আবারও একটি মিছিল এসে থানার মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে উল্লেখ করেছিলেন তারা তাদেরকেও অনুরোধ করেন। কিন্তু কানো লাভ হয়নি। এরপর হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়। তখন তাঁরা ছত্রভঙ্গ হয়ে চলে যায়। এর বেশ কিছুক্ষণ পর বেলা একটার দিকে একটি বড় মিছিল নিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে করতে থানার ভেতরে ঢুকে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা।
এ সময় কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলেও কোনো লাভ হয়নি। একপর্যায় আমরা তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে চাইলেও তারা চার থেকে পাঁচ হাজার লোক থানার চারপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে আক্রমণ চালায়। যে কারণে আমরা সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ জন পুলিশ সদস্য প্রাণ বাঁচাতে যে যার মতো করে দৌড়ে পালাবার চেষ্টা করি। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা প্রথমে থানায় ঢুকে থানা কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে মুল ফটকে অগ্নিসংযোগ করে।
এ সময় থানা কার্যালয়ে নিচ তলায় থাকা আমরা ৯ পুলিশ সদস্য কৌশলে ভবনের ছাদের ওপরে গিয়ে পানির ট্যাংকের নিচে লুকিয়ে যাই। হামলাকারীরা প্রথমে থানা কার্যালয়ের নিচতলায় মূল ফটকে অগ্নিসংযোগ করায় আর ওপর ওঠেনি। আমরা সেই পানির ট্যাংকের নিচে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় বেলা আড়াইটা থেকে ৯ পুলিশ সদস্য সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করতে থাকি।
এরপর তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও দীর্ঘ সময়ে কোনো উদ্ধার তৎপরতা শুরু না করায় তাদের মনোবল ভেঙ্গেযায়। তারা ধরেই নেন তাদের অন্যদের মতো মেরে ফেলা হবে। পরবর্তিতে সন্ধ্যায় সেনা সদস্যদের গাড়ির হুইসেল শুনে আমরা সেখান থেকে বের হই। তাদের কাছে সাহায্য চাইলে তারা আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। আমার সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যদের সবাই শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত ছিলো।
ওই পুলিশ কর্মকর্তার দেয়া বর্ণনায় তিনি আরো জানিয়েছিলেন,পুলিশ প্রাণে বাচতে থানার পেছন পাশে ভাঙা দেয়ালের ভেতর দিয়ে বের হয়ে উত্তর পাশের বাড়িগুলোয় ঢুকে পড়ে। হামলাকারীরা সেখান থেকে ধরে এনে পিটিয়ে হত্যা করতে থাকে তাঁদের। হামলাকারীরা বেলা ১টা থেকে বিকেল প্রায় ৪টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় থানা এবং এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করে এই হত্যাযজ্ঞ চালায়। তাঁরা থানার মধ্যে থাকা প্রতিটি আবাসিক ভবন, গাড়ি, মোটরসাইকেলসহ আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। আবাসিক ভবনে থাকা বেশকিছু পরিবারের শিশু ও নারী সদস্যরা থানার পেছনের কিছু বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বেঁচে যান।
স্থানীয়দের মতে সেই দিন ঃ
পুলিশ সদস্যদের হত্যার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এনায়েতপুর থানার পাশের বাসিন্দা নুরজাহান বেগম (৬২) বলেন,হামলাকারীরা কাঠের লাঠি, লোহার রড দিয়ে কীভাবে যে পুলিশ সদস্যদের ধরে ধরে চোখের সামনে পিটিয়ে হত্যা করল, আমরা কিছুই করতে পারলাম না। সে কথা মনে হলে আমার বুক কেঁপে ওঠে। হামলাকারীরা আশপাশের বাড়িতে পালিয়ে থাকা পুলিশ সদস্যদের টেনেহিচড়ে বের করে পিটিয়ে হত্যার পর লাশগুলো আমার বাড়ির পাশে এক জায়গায় জমা করে রাখে। সন্ধ্যায় সেনা বাহিনীর গাড়ি আসলে লাশগুলো সিরাজগঞ্জ মেডিকেলে নিয়ে যায়।
একই এলাকার মালা বেগম বলেন, তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে তিনজন পুলিশ সদস্যের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করেছেন। হামলার তীব্রতা যখন চরম, ঠিক এমন সময় তাঁর বাড়ির ভেতরে ঢুকে তিন পুলিশ সদস্য সাহায্য চান। তখনই তিনি দ্রুত ঘরে থাকা সাধারণ পোশাক দিয়ে তাঁদের পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করে নিরাপদ হেফাজতে রাখেন। দীর্ঘ সময় পর হামলাকারীরা চলে গেলে তাঁদের বাড়ি হতে বের করে দেন। হামলাকারীরা বেশ কয়েক বার এসে হুমকি দিয়ে বলতে থাকে বাড়িতে পুলিশ লুকিয়ে আছে, তাদের বের করে না দিলে এই বাড়িতেই হামলা করা হবে। একবার কয়েক জন এসে ঘরের দরজা খুলতে বলে। এরপর ঘরে ঢুকে তারা তন্য তন্য করে খুঁজে চলে যায়।
স্থানীয় খোকশাবাড়ি গ্রামের বৃদ্ধ জহির উদ্দিনের মতে এমন হত্যাযজ্ঞ জীবনে দেখেননি। তিনি বলেন,বেলা তিনটা দিকে থানার পেছনের জঙ্গলের মধ্যে পালিয়ে থাকা বেশ কয়েক জন পুলিশ সদস্যকে হামলাকারীরা খুঁজে বের করে কাঠের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পেটাতে শুরু করে। সে সময় জীবন বাঁচাতে কোনো পথ না পেয়ে তাঁরা পাশের পুকুরের পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। হামলাকারীরা সেই পানিতে নেমেই তাদের পিটিয়ে হত্যা করে লাশগুলো টেনে তুলে পাড়ে জমা করে। একটি লাশ পরে সেনা সদস্যরা পুকুরের পানি থেকে উদ্ধার করেছেন। প্রত্যেক্ষদর্শীদের মতে হামলাকারীদের অধিকাংশর বয়স ১৭ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে দু–একজনের বয়স ৪০-৪৫ হবে। তবে তারা কেউই স্থানীয় নয় এবং সবাই তাঁদের অপরিচিত।
নিহতদের নাম ও মামলা অবস্থা ঃ ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট এনায়েপুর থানার তৎকালীন ওসি সহ ১৫ পুলিশ সদস্যকে নির্মম ও নির্দয় ভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আহত হয় ৩১ পুলিশ সদস্য। আহতদের অনেকেই এখনও ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তবে সেই সময়ের কেউ আর এখন এ থানাতে নেই। বাংলাদেশ পুলিশসহ সারা দেশকে কাঁপিয়ে দেওয়া সেই হত্যাকান্ডের দুই বছর আজ।
এ নিয়ে হতাশা কাজ করছে এ থানায় বর্তমানে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মনে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে গত ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট এনায়েতপুর থানায় হামলা হয়। গান পাউডার দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় থানা ভবনটি। পিটিয়ে হত্যা করা হয় ১৫ পুলিশ সদস্যকে। এ সময় আহত হন ৩১ পুলিশ সদস্য। এ হত্যা কান্ডের ঘটনায় একটি মাত্র মামলা হয়েছে। সন্দেহ ভাজন ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও এছাড়া সেটির তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। এ থানার তৎকালীন ওসি, পাঁচজন এসআই, একজন এএসআই ও আটজন কনস্টেবল সেদিন নিহত হন।
এরা হলেন,পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক, এসআই তহসেনুজ্জামান, আনিছুর রহমান ও নাজমুল ইসলাম, প্রণবেশ কুমার বিশ্বাস ও রহিজ উদ্দিন, এএসআই ওবায়দুর রহমান, কনস্টেবল হুমায়ন কবির, আরিফুল আযম, হাফিজুল ইসলাম, আব্দুস সালেক, রিয়াজুল ইসলাম, হানিফ আলী ও শাহিন উদ্দিন। তারা আত্মসমর্পণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এর আগে থানা আক্রমণের চেষ্টাকালে পুলিশ গুলি ছোড়ে। তাতে দুই শিক্ষার্থী ও এক তাঁত শ্রমিক নিহত হন। ওইদিন ১৬টি অস্ত্র ও সহস্রাধিক গোলাবারুদ লুটের ঘটনা ঘটে। এখনও ছয়টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি।
এদিকে এনায়েতপুর থানায় ২০২৪ সালের ৪ অগাস্টের হামলার দিনের ভয়াবহতা থেকে,বেঁচে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল মালেক সেদিনের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, তিনি পরিবারের কাছ থেকে শেষ বিদায় নিয়েছিলেন। আব্দুল মালেক প্রাণে রক্ষা পেলেও থানার অফিসার ইনচার্জসহ ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। এর মধ্যে ঘটনার দিন থানার আশাপাশে ১৩ জন পুলিশের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহত একজনকে থানার পাশে বাজারে একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।
অস্ত্র ঃ
সেদিন এনায়েতপুর থানার বহু অস্ত্র-গুলি লুট হয়ে যায়। থানার তথ্য অনুযায়ী ১৮টি রাইফেল, পিস্তল ও শটগানের মধ্যে এখনও ছয়টি অস্ত্র এবং অধিকাংশ গুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
অন্তঃসত্ত্বা বলে নারী কনস্টেবল মৃত্যু থেকে বেচে যায় ঃ
এনায়েতপুর থানার বর্তমান ওসি তদন্ত ফরিদুল ইসলাম জানান,আমি কর্মস্থলে যোগদানের পর জেনেছি এই থানার কি অবস্থানে ছিলো এখন কি আছে। সেদিনের ঘটনায় নারী পুলিশ সদস্যর জীবন বাচাতে অন্য সদস্যরা কৌশল অবলম্বন করেছিলো বলে তিনি জানান। তার মর্ণনামতে,এনায়েতপুর থানায় হামলার দিন মোট ৫৭জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত ছিলেন এর মধ্যে ৩ জন ছিলেন নারী কনস্টেবল। বেঁচে যাওয়া একজন নারী কনস্টেবলসহ থানায় আগুন দেয়ার সময় দুজন নারী পুলিশ থানার ভেতর ছিল।
নিহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে একজন অন্তঃস্বত্ত্বা কনস্টেবল ছিল এমন আলোচনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। মুলত এনায়েতপুরে অন্তস্বত্বা পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই সময় তিনি অন্তস্বত্ত্বা ছিলেন না।
থানার ছয়জন নারী পুলিশের মধ্যে তিনজন নারী সে সময় মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন। হামলাকারীদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচাতে এক সহকর্মী কনস্টেবল তাকে অন্তঃস্বত্ত্বা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু অন্তঃস্বত্ত্বা শোনার পরেও তাকে আঘাত করা এবং মারধর করা থামানো হয়নি। মারধরের এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন এবং সন্ধ্যার দিকে তার জ্ঞান ফেরে হাসপাতালে।
পুলিশ হত্যায় মামলা ও গ্রেফতার ঃ এনায়েতপুরে পুলিশ হত্যার ঘটনায় ওই বছর ২৬শে আগস্ট একটি হত্যা মামলা হয় যেখানে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের স্থানীয় চারজন নেতা এবং অজ্ঞাত ৫/৬ হাজার জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছিল এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আহম্মদ মোস্তফা খান বাচ্চুকে। তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। এনায়েতপুরে পুলিশ হত্যার এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে সিরাজগঞ্জের আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কারাগারে ছিলেন। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের সাবেক এমপি ও মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস পুলিশ হত্যা মামলায় আসামী হিসেবে গ্রেফতার হয়ে এক বছরের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্ত হয়েছেন।
মামলার বাদির বক্তব্য ঃ
এদিকে এনায়েতপুরে পুলিশ হত্যার যে মামলাটি হয়েছে সেই মামলার বাদি হিসেবে স্বাক্ষর আছে এসআই আব্দুল মালেকের। মামলার বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন,রাষ্ট্র যেভাবে চাইবে সেভাবেই সেটা করতে হবে। আমার আর কী বলার আছে। এজাহার ওনারা লিখেছিল। আমি স্বাক্ষরটা করেছিলাম।
পুলিশ সুপারের বক্তব্য ঃ
২০২৪ সালে ৪ আগষ্ট সিরাজগঞ্জ এনায়েতপুর থানায় হামলা,হত্যা লুটের মামলা বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পুরিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ২০২৪ সালের ২৬ আগষ্ট একটি মামলা পুলিশের পক্ষ থেকে রুজু করা হয়েছে। মামলায় বেশ কয়েকজন গ্রেফতারও হয়েছেন। মামলাটি নিয়মিত আছে এবং পরবর্তি কার্যক্রমের জন্য অগ্রগামি আছে। এছাড়া থানার কার্যক্রম স্বভাবিক আছে।