কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকায় ন্যাশনাল লীফ ট্যোবাকোর একটি ছোট গুদাম রয়েছে। ৬ কাঠা জমির ওপর নির্মিত এ গুদামে শুধু তামাক রাখা হয়। গত রবিবার ২ আগস্ট ২০২৬ইং কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা আকতার গুদামে অভিযান পরিচালনা করেন। সে সময় র্যাবের কর্মকর্তাসহ কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকরাও অভিযান পর্যবেক্ষণ করেন। সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই তালা ভেঙে গুদামে প্রবেশ করে তল্লাশি চালানো হয়।
অবৈধ কোনো পণ্য না পাওয়ায় গুদাম নির্মাণে লে-আউট ডিজাইন ও সাইনবোর্ড না থাকার অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৫১ ধারায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, যা পরিশোধ করা হয়।
প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার রাইসুল হকের অভিযোগ, অভিযানের আগে স্থানীয় কৃষকদল নেতা সুমন সরকারের ভাই শান্ত সরকার ও তার অনুসারীরা রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন। কোম্পানির দুটি ট্রাক আটকে রাখা হয়। পরে ট্রাক ছাড়া হলেও ম্যানেজার এনামুল হক ও কর্ণেলকে ত্রিমোহনী এলাকার কৃষকদলের পার্টি অফিসে ডেকে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরে তা কমিয়ে ১ কোটি টাকা দাবি করা হয় এবং ব্যবসা করতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
৩১ জুলাই রাতে ম্যানেজারদের ডাকার পর রাত ১টার পর ০১৭১৬৯৩৮১০৭ নম্বর থেকে কল আসে। রিসিভ না করলে মতিউর রহমান মতিন পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপে চাঁদা ও সমঝোতার ম্যাসেজ আসে। শান্ত সরকার পরিচয়ে ০১৭১১-৩৯৭১৫৮ নম্বর থেকে বারবার হুমকিমূলক ম্যাসেজ পাঠানো হয়। জেলা বিএনপির নেতাদের জানালেও হুমকি অব্যাহত থাকে। ১ আগস্ট সকাল পর্যন্ত ম্যাসেজ পাঠিয়ে ব্যবসা বন্ধের ও নকল ব্যান্ডরোল দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়।
রাইসুল হক সাংবাদিককে আরও জানান, চাঁদা না দেওয়ায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে অভিযান করানো হয়েছে বলে তার ধারণা। কুষ্টিয়া মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, অপরিচিত নম্বর থেকে কল ও ম্যাসেজের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক ক্ষতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনার বিষয়ে জিডি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্হা।