গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি সরকারী কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন না করে নিকলী হাওরে বেড়াতে যান শিক্ষকরা। আর এ দিবস অবমাননার অভিযোগ তুলে রবিবার সকালে আন্দোলনে যান শিক্ষার্থীরা। এসময় পটকা ফুটিয়ে ও চেয়ার, গ্লাস ভেঙ্গে নানা শ্লোগানে কলেজের উপাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবী করেন বিক্ষুব্দ শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলন কারী শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি শান্ত করে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এলাকাবাসী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন উপলক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করে বিএনপি সরকার। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে এ দিবসটি পালন করা হয়। কিন্তু ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় কালিয়াকৈর সরকারী কলেজে। গত ৫ আগস্ট জাতীয় প্রোগ্রাম থাকলেও বন্ধের নোটিশ দেয় সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ।
বিক্ষুব্দ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ উঠেছে, সরকারী নিদের্শনা অনুযায়ী জুলাই গণঅভ্যুত্থান পালন না করে কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওরে বেড়াতে যান ওই কলেজের শিক্ষকরা। তারা ওই হাওরে বেড়ানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে পোস্ট করেন। সেই পোস্টে তাদের নানা স্ট্যাটাসের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ‘আমি তো ভালা না ভাল নিয়েই থাইকো’। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন না করে শিক্ষকদের হাওরে বেড়ানোর ঘটনাকে এ দিবসের অবমাননার অভিযোগ তুলেন।
এমন অভিযোগ তুলে রবিবার সকালে শিক্ষার্থীরা কলেজে প্রবেশের পর আন্দোলন শুরু করেন। এসময় ‘শিক্ষকের চেহারায় আওয়ামীলীগ দেখা যায়, আওয়ামীলীগের ঠিকানা এই কলেজে হবে না, শহীদ ভাইয়ের রক্ত নিয়ে তালবাহানা মানি না মানব না, জুলাই নিয়ে তালবাহানা মানি না মানব না’ এমন নানা শ্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে বিক্ষুব্দ শিক্ষার্থীরা।
এক পর্যায় বিক্ষুব্দরা পটকা ফুটিয়ে কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার, গ্লাস ভাংচুর করেন। এসময় নানা অনিয়মের অভিযোগে ওই কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ ইফতেখারুল ইসলামের পদত্যাগ দাবী জানান বিক্ষুব্দ শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানার ওসি সহিদুল ইসলাম তার সঙ্গী ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্দ শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
বিক্ষুব্দ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস গত ৫ আগস্ট পালন করার কথা ছিল। এটা জাতীয় প্রোগ্রাম। কিন্তু এ দিবস পালন না করে ১০-১৫জন শিক্ষক নিকলী হাওরে বেড়াতে যান। এতে আমাদের মনে হলো, জুলাইকে অবমাননা করা হয়েছে। আমরা সবাই জুলাই যোদ্ধা। জুলাইয়ের ডাক এ কলেজ থেকে আমরা দিয়েছি। কিন্তু বুকের রক্তক্ষরণ হয়, যখন দেখি আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠার জন্য শিক্ষকরা এমন কর্মকান্ড করেছেন। এছাড়াও আরো নানা অনিয়মের অভিযোগে উপাধ্যক্ষের পদত্যাগ জানান তারা।
ওই কলেজের হিসাব বিজ্ঞানের শিক্ষক ও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সেলিম হোসাইন জানান, প্রথমে কলেজ বন্ধের নোটিশ দেওয়া হলেও পরে সেটা সংশোধন করা হয়েছিল। ওইদিন সকাল ৮টায় এ দিবস পালন করে আমরা হাওরে বেড়াতে গিয়েছিল। মনে হচ্ছে, এটা নিয়ে একটু ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে কালিয়াকৈর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আহমাদুল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে ওই কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ ইফতেখারুল ইসলাম জানান, আগে প্রজ্ঞাপন ছিল জুলাই অনুষ্ঠান আগস্টেও যেকোনো সময় করতে পারবে। সে অনুযায়ী ৩ আগস্ট এ দিবস পালন করা হয়। কিন্তু ৪ আগস্ট আবার নির্দেশনা পাই ৫ আগস্ট এ দিবস পালন করতে হবে। এরপর আমরা সকাল ৭টার থেকে এ দিবসের প্রোগ্রাম শুরু করেছি। কিন্তু ওরা কেন আসে নাই, সেটা ওরাই জানে। তবে ওরা কেন আমার পদত্যাগ দাবী করেন? তা আমি জানি না।
এব্যাপারে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্দ শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে শান্ত করেছি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। তবে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।