ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়ম ও আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও করেছেন ছাত্রদল ও ‘পতিত স্বৈরাচার বিরোধী নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে বিক্ষোভ ও কুশপত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালন করেছে আন্দোলনকারীরা। এ সময় আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইউএনও কার্যালয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে সকাল ১১টার দিকে কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ইউএনও কার্যালয়ের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়। এতে ছাত্রদল, এনসিপিসহ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী ও স্থানীয় ছাত্র-জনতা অংশ নেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সম্প্রতি ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রতিনিধি মনোনয়নে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি করেছেন ইউএনও ফারজানা আখতার। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের বীর যোদ্ধাদের উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের সুবিধাভাবোগীদের এ কাজে মনোনীত করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন এবং ইউএনও’র কুশপুত্তলিকায় আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাথে জানা যায়, বেলা সোয়া ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা কার্যালয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশের বাধা ও ধস্তাধস্তির সৃষ্টি হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর আন্দোলনকারীরা বিতর্কিত তালিকা বাতিল ও অভিযুক্তদের বাদ দেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন।
কুমারখালী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহানুর রহমান সোহান অভিযোগ করে বলেন, ইউএনও ফারজানা আখতার স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের লোকজনকে পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছেন। জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত সংগ্রামীদের বাদ দিয়ে এই তালিকা করা হয়েছে। আমরা এই অনিয়মের বিরুদ্ধে আজ ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছি। দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
ঘটনার পর থেকে উপজেলা কার্যালয় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এশিয়া পোস্টকে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করে রয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।