সোমবার প্রকাশিত দাখিল পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ১০টি মাদ্রাসায়। এসব মাদ্রসা থেকে ১’শ ৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেনি কেউ। শতভাগ পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়ে রংপুর বিভাগে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়াও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করলেও তারাও শতভাগ ফেলের রেকর্ড স্পর্শ করেছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে,সদ্য প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় উপজেলার চৈত্রকোল ইউপি’র অনন্তরামপুর দ্বি-মূখী দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৬জন, মদনখালী কোচারপাড়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসার ১৬ জন , টুকুরিয়া ইউনিয়নের ছাতুয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২৩ জন, কুমরসই দাখিল মাদ্রাসায় ১১ জন , গন্ধর্বপুর দাখিল মাদ্রাসা ১৭ জন, বড়আলমপুর ইউনিয়নের পতœীচড়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২৬ জন, বড় আলমপুর আবুল হোসেন দাখিল মাদ্রাসা হতে ১৯ জন, ছোট উজিরপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসার ১৫ জন, রামনাথপুর ইউনিয়নের খেজমতপুর এমাজিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৬ জন এবং কাবিলপুর ইউনিয়নের জুনিদপুর নায়েবিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৫ এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল কিন্তু ওই পরীক্ষার্থীরা (১’শ ৬৪ জন) কেউ পাশ করেনি।
মাধ্যমিক বিদ্যালয় দু’টি চতরা ইউনিয়নের ঘাষিপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৫জন ও কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৮ জন এরাও কেউ পাশ করেনি। ওই ১০ মাদ্রাসা ও মাধ্যসিক বিদ্যালয়ের পাসের হার শুন্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠান গুলোর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ অভিভাকরা।
একাধিক মাদ্রাসা সুপারের সাথে কথা হলে তারা বলেন, এমন ফলাফল আমরা আশা করিনি। আগামীতে ভাল ফলাফলের চেষ্টা করা হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানান, শতভাগ ফেল করা মাদ্রাসার সুপারদেরকে কারন দর্শনোর নোটিশ প্রদাণ করা হবে। ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে এমন মাদ্রাসা গুলোতে পড়া-লেখার মান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ফলাফল বিপর্যয় এর কারণ অনুসন্ধান করে তা নিরসনের উদ্যোগ গ্রহন করা হবে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ও প্রশাশনিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে বিধি মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।