কুড়িগ্রামের উলিপুরে হামিদুল হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেডাম দিয়ে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করার জোড় দাবি জানায়। নচেৎ বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম জেলার সমস্ত সড়ক বন্ধ করে দেয়ার হুমকী প্রদান করে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। বুধবার সকাল ১১ টায় কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের উলিপুর বড় মসজিদ মোড়ে প্রখর রোদ উপেক্ষা করে ঘন্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে হামিদুলের বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্বীয়সজনসহ এলাকার শতাধিক নারী ও পুরুষ।
কুড়িগ্রাম জেলা ট্রাক-ট্যাংকলড়ী, কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে পুলিশের নিরব ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, হামিদুলের মা আম্বিয়া বেগম, বোন সাবানা খাতুন, ভাবি ঈশিতা বেগম, ভাই মিলন ইসলাম, বাবা জোবেদ আলীসহ জেলা ও উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলী, আয়নাল হক, আব্দুল খালেক, রমজান আলী, এরশাদুল হক প্রমুখ।
ড্রাইভার হামিদুলের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। মানববন্ধনে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। হামিদুলের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয় মানববন্ধনে।
উল্লেখ্য যে, উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের নিরাশির পাথার এলাকায় উলিপুর-চিলমারী সড়কের পাশ থেকে হামিদুল ইসলাম(২৮) নামের এক যুবকের মরদেহ গত ১ আগষ্ট সকালে খবর পেয়ে পুলিশ উদ্ধার করে। নিহত হামিদুল ইসলাম উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের পশ্চিম সাদুল্যা এলাকার জোবেদ আলীর ছেলে। উদ্ধারের সময় মরদেহটির চোখ, মুখ ও বাম কান এবং বাম পায়ের বুড়ো আঙুলেও আঘাতের চিহ্ন ছিল।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা বলে ধারণা করলেও নিহতের পরিবারের অভিযোগ, হামিদুলকে পরিকল্পিতভাবে কে বা কাহারা হত্যা করে মরদেহ সড়কের পাশে ফেলে রাখে। এ ঘটনায় উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, হামিদুলের মৃত্যুর ২ দিন পরে মার্ডার মামলা নেয়া হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। দ্রুত মামলার অগ্রগতি হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।