দেশ ব্যাপি বিদ্যুৎ সংকটে বিভিন্ন পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিতে হামলার ঘটনা ঘটায় সিরাজগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা চাওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে গত বুধবার রাত্রি থেকে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন থেকে সিরাজগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এবং ২ এর অধিনস্ত সকল সাবব ষ্টেশনের জন্য নিরাপত্তা জোরদার করণের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনকে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানাগেছে।
সিরাজগঞ্জ জেলার ৯টি উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধিন সকল গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুতের ঘাটতির কথা শোনা গেলেও কর্তৃপক্সের ভাষায় কোন প্রকার লোডমেডিং নেই। তাদের দেয়া দাপ্তরিক ভাষায় মাঝে মধ্যে বৈদ্যতিক লাইন মেরামতের কারণে কিছু সময় বন্ধ রাখা হয় কিন্ত সেটা সিমিত। এজন্য তেমন কোন গ্রহক হয়রানী হয় এমনটা বলতেও তারা নারাজ।
সিরাজগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির আওতায় গ্রামাঞ্চলে ১-২ ঘন্টা লোডশেডিং অভিযোগ থাকেলেও সমিতি বলছে মাঝে-মধ্যে বিদ্যুৎ লাইন ত্রুটির কারণে মেরামতের সময় লোডশেডিং দেয়া হয়। তাছারা এ সমিতিতে বিদ্যুতের লোডশেডিং নেই ।
সিরাজগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির এজিএম(কম) প্রকৌশলী খালেদ আল মহাইমিন জানান এ সমিতিতে গড়ে প্রতিদিন ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লাগে যা পুরাটাই সারাদিনে পেয়ে থাকি। তাই লোডশেডিং নেই। লাইন ত্রুটির কারণে মেরামতের জন্য সাড্ডাউন দিয়ে লাইন বন্ধ করা হয়। একেই গ্রামের মানুষ লোডশেডিং বলে।
সিরাজগঞ্জের উত্তরের উপজেলা কাজিপুরের পল্লী বিদ্যৎ সমিতির ডিজিএম মাইদুল ইসলাম জানান,আমার উপজেলা সাড়ে ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। যা প্রতিদিন পাচ্ছি। কোন বিদ্যুৎ সমস্যা নেই। আর চরাঞ্চলের উনিয়নগুলোতে জামালপুর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তারপরও কোন প্রকার অপৃতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য সিমান্তবাজার সাব ষ্টেশন সহ কয়েকটি স্থানে নিরাপত্তার জন্য পত্র দেয়া হয়েচে। যা মন্ত্রী মহোদয়ের নজরেও আছে।
শাহজাদপুর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম জহির আব্বাস জানান আমার উপজেলায় মোট ১লাখ ৫৪ হাজার গ্রাহক। প্রতিদিনের চাহিদা সাড়ে ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কিন্তু গত কয়েক দিনের তুলনায় এখন পুরোদমে বিদ্যুৎ পাচ্ছি। তাই গ্রাহক হামলা বা কোন সংকা নেই তারপরও নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা বিদ্যুৎ সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
তাত শিল্প এলাকাখ্যাত বেলকুটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় ১লাখ গ্রাহক থাকলেও সেখানে কোনপ্রকার বিদ্যুৎ ঘাটতি নেই বলে সাফ জানালেন ডিজিএম আবুল বাশার। তারমতে প্রতিদিন চাহিদা ২৬/২৭ মেগাওয়াট। কিন্তু পাচ্ছি ২৪/২৫। দিনরাত মিলে সমন্ময় করে সরবরাহ করার কারণে তেমন কোন সমস্যা হচ্ছেনা।তারপরও ওপরের নির্দেশনা মোতাবেক নিরাপত্তার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট পত্র দেয়া হয়েছে।
চলনবিলাঞ্চলখ্যাত তাড়াশের ডিজিএম মোজাম্মেল হক জানান চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সটিক ভাবেই পাচ্ছি। গ্রাহক সন্তষ্টির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। কোন সমস্যা নেই।
অপরদিকে রায়গঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে কেউ ফোরন রিসিভ করেননি।
একই অবস্থা জেলার দুর্গম যমুনা নদীর চরাঞ্চলখ্যত চৌহালী উপজেলার।তবে সিরাজগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির-১ এর জেনারেল ম্যানেজার নুরুল হুদা জানান আমাদের কোনো লোডশেডিং নেই । কোনো সমস্যাও এখনো দেখা দেয়নি।
তবে দেশের বিভিন্ন পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিতে বহিরাগতদের দ্বারা হামলার ঘটনা ঘটায় পূর্ব শতর্কতা হিসেবে জেলা প্রশাসকের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করায় গত বুধবার রাত্রি থেকে স্থানিয় পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে । আমরা চেষ্টা করছি গ্রাহকদের চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে।
তবে গ্রহকদের কথা দিনে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকলেও সংশ্লিষ্টরা বিথ্যা বলছে। ফোন করলে বলে লোড শেডিং চলছে।