সারাদেশের মতো গাজীপুরের কালিয়াকৈরেও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। কিন্তু কি নাগাদ এ সংকট কাটবে? সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না সংশ্লিষ্টরাও। অথচ গ্যাসের সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে শিল্পকারখানা ও পরিবহন সেক্টর। আবাসিক পাইপ লাইনে গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না করাসহ নানাভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ।
এলাকাবাসী, পরিবহন শ্রমিক, শিল্পকারখানা ও তিতাস গ্যাস কোম্পানী সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে সারা দেশেই আশঙ্কাজনকভাবে গ্যাসের চাপ কমে গেছে। এর ধারাবাহিকতায় কালিয়াকৈর উপজেলাতেও গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। এখানকার অধিকাংশ সিএনজি পাম্প বন্ধ হয়ে পড়েছে।
যে কয়েকটি সিএনজি পাম্প খোলা থাকলেও গ্যাস সংকটের কারণে সেগুলোতেই তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না পাম্প মালিক ও তার কর্মচারীরা। গ্যাসের চাপ না থাকায় কয়েকটি পাম্পে দাড়িয়ে রয়েছে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাচ্ছে না বলেই চলে।
এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন পরিবহন সেক্টর। পাম্পে অপেক্ষারত পরিবহন শ্রমিকরা তাদের হতাশার কথা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ঘন্টার পর ঘন্টা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে লাইনে দাড়িয়ে অপেক্ষা করলেও গ্যাস মিলে ১৫ টাকা থেকে দেড়শ টাকার পরিমাণ। এটা দিয়ে গাড়ি চালানো যায় না। বেশিরভাগ চালকরা তাদের গাড়ি বন্ধ করে রেখেছে। আর বেশি দিন গাড়ি বন্ধ করে রাখলেও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাবে।
অপরদিকে গাড়ি চালাতে না পেরে তাদের সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। এভাবে কতদিন বসে বসে জমানো টাকা খরচ করে সংসার চালানো যায়? এমন প্রশ্ন ছুড়ছেন পরিবহন শ্রমিকরা। তাদের সঙ্গে সঙ্গে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরাও। তাদের অভিযোগ, গ্যাস সংকট ও পরিবহন স্বল্পতার সুযোগে তাদের কাছে থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন পরিবহন শ্রমিকরা।
এছাড়াও গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় ও অর্থ গুনতে হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন যাত্রীরা। শুধু পরিবহন সেক্টরেই নয়, আরেকটি সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে বাসা-বাড়িতেও। আবাসিক পাইপ লাইন গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না করতে চরম জনদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এছাড়াও গ্যাস সংকটের কারণে বাজার থেকে বেশি দামে সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষ। গ্যাস সংকটের প্রভাবে বিদ্যুৎ খাতেও সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে ঠিকমতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে যাচ্ছে না বলেই ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে জনজীবন। এছাড়াও কালিয়াকৈর একটি শিল্পাঞ্চল এলাকা। এখানে শত শত শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। এই গ্যাসের সংকটের কারণে এসব শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
একারণে প্রায় ১৫টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ। এভাবে যদি ক্রমাগত উৎপাদন ব্যাহত হতে থাকে, তাহলে শ্রমিক ছাটাইয়ের শঙ্কা থেকে যায়। শুধু তাই নয়, বেশির ভাগ কারখানাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি কারখানার সংশ্লিষ্টরা। গ্যাসের এই সংকট কবে নাগাদ শেষ হবে? সেটাও গ্যাস সংশ্লিষ্ট কেউই বলতে পারছেন না বলে অভিযোগ দুর্ভোগে মানুষের। এটা নিয়েও ব্যাপক হতাশায় আছেন বলেও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তবে গ্যাস সংকটের বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে সিএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবহন শ্রমিক, যাত্রী ও এলাকাবাসী।
এব্যাপারে কালিয়াকৈর চন্দ্রা তিতাস জোনাল অফিসের ব্যবস্থাপক আল মামুন জানান, আজকে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও সংকট এখনো কাটেনি। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস যে গ্যাস থাকার কথা তার চেয়ে অনেক কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে অনেক পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে উপজেলার অনেক কারখানায় গ্যাস রয়েছে। তবে খুব দ্রুত গ্যাস সংকট সমাধান হবে।