রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ভুয়া জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা—এনএসআইয়ের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এক তরুণীকে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যক্তির আগের স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও পরিচয় গোপন করে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। পরে প্রথম স্ত্রী সন্তানসহ দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানালে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এরই মধ্যে গত ১৮ আগস্ট ভোরে ওই ব্যক্তিকে দ্বিতীয় শ্বশুরবাড়ির পেছনের পুকুরপাড় থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। কে বা কারা তাকে অপহরণ করে সেখানে ফেলে গেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা চলছে।
অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম লিওন মিয়া। তিনি গঙ্গাচড়ার আলমবিদিতর ইউনিয়নের সয়রাবাড়ি ফুলবাড়ি চওড়া এলাকার সাফুল মিয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, তিনি নিজেকে এনএসআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নোহালী ইউনিয়নের মধ্য কচুয়া এলাকার মোকাররম হোসেনের মেয়ে মাহফুজা আক্তার রিয়া মনিকে বিয়ে করেন।
স্থানীয়দের দাবি, লিওনের প্রকৃত পরিচয়পত্রে তার নাম লিওন মিয়া এবং বাবা সাফুল মিয়া। তবে কথিত এনএসআই পরিচয়পত্রে তার নাম দেওয়া হয় ‘সম্রাট হোসেন সামিম’ এবং বাবার নাম উল্লেখ করা হয় ‘মতিউজ্জামান সাহেব আলী’। একই সঙ্গে ভিন্ন পরিচয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে ওই পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার শুরুতে মোকাররম হোসেন তার জামাই এনএসআই কর্মকর্তা—এমন পরিচয়ে গর্ব করতেন বলে স্থানীয়রা জানান। তবে পরে লিওনের প্রথম স্ত্রী সন্তানসহ মোকাররম হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তার আগের সংসারের কথা জানালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর থেকে লিওন ওই বাড়িতে আসা বন্ধ করে দেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, লিওনের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল করে বিক্রি, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে ১৮ আগস্ট ভোরে দ্বিতীয় শ্বশুর মোসলেম মিয়ার বাড়ির পেছনের পুকুরপাড়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লিওনকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তারা তাকে উদ্ধার করেন। লিওনের দাবি, অপরিচিত কয়েকজন তাকে অপহরণ করে হাত-পা বেঁধে সেখানে ফেলে যায়। তবে তিনি অপহরণকারীদের কাউকে চিনতে পারেননি বলে জানান।
লিওনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার তিন দিন আগে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে বিরক্ত করার অভিযোগে লাবিব, রবিউল, শীতল ও পায়েলের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এ কারণে তাদেরকেই তিনি অপহরণের ঘটনায় সন্দেহ করছেন। তবে এ অভিযোগেরও কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
লিওন মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি পরিচয় গোপন করে মাহফুজা আক্তার রিয়া মনিকে বিয়ে করার বিষয়টি অন্যায় হয়েছে বলে স্বীকার করেন।
অভিযোগের বিষয়ে মোকাররম হোসেন ও তার মেয়ে মাহফুজা আক্তার রিয়া মনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সচেতন মহলের ভাষ্য, ব্যক্তিগত প্রতারণার অভিযোগের পাশাপাশি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করা হয়ে থাকলে সেটি গুরুতর বিষয়। একই সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনাটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।