সর্বজনীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও সেক্যুলার শিক্ষানীতি প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে বেগবান করার লক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৬ষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলন সফল করতে ঝিনাইদহে সাংগঠনিক প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ঝিনাইদহ জেলা শাখার কার্যালয়ে সংগঠনের ৩ নম্বর জোনের উদ্যোগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক ও ৩ ও ৪ নম্বর জোনের ইনচার্জ ছাত্রনেতা লাবনি সুলতানা। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের ঝিনাইদহ জেলা শাখার আহ্বায়ক ছাত্রনেতা শারমিন সুলতানা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ছাত্রনেতা মুক্তা বাড়ৈ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকম-লীর সদস্য কমরেড জনার্দন দত্ত নান্টু এবং বাসদের ৩ নম্বর জোনের জোন ইনচার্জ কমরেড প্রকৌশলী শম্পা বসু।
বৈঠকে বক্তাগণ বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোগত সংকট, শিক্ষক সংকট, বেকারত্ব ও বৈষম্যের পাশাপাশি শিক্ষাকে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করার প্রবণতা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলছে। একটি গণতান্ত্রিক, বিজ্ঞানমনস্ক ও যুক্তিনির্ভর সমাজ গঠনের উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বিদ্যমান কাঠামো যথেষ্ট নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।
তারা বলেন, শিক্ষা কোনো শ্রেণি বা গোষ্ঠীর বিশেষ সুবিধা নয়, এটি প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই বৈষম্যহীন, সর্বজনীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও সেক্যুলার শিক্ষানীতি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়; এটি রাষ্ট্র ও সমাজের সামগ্রিক সংকটেরই প্রতিফলন। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনকে গণতান্ত্রিক ও শোষণ-বৈষম্যবিরোধী বৃহত্তর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করে ছাত্রসমাজের শক্তিকে সংগঠিত করতে হবে।
বৈঠকে আগামী ৭ অক্টোবর ২০২৬ ঢাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলায় অনুষ্ঠিতব্য সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৬ষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে ৩ নম্বর জোনের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং সম্মেলনের প্রচার-প্রচারণা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সভা থেকে শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্যের অবসান এবং গণমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার সংগ্রামকে শক্তিশালী করতে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ৬ষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলন সফল করার আহ্বান জানানো হয়।