গ্রামের একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে জাতীয় পর্যায়ে ফুটবল খেলার সুযোগ পেয়েছে নন্দীগ্রামের কিশোরী ফুটবলার মিম আক্তার সুমি। তার এই সাফল্যের গল্প শুনে অনুপ্রাণিত হয়েছে নন্দীগ্রাম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নন্দীগ্রাম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আজমের আমন্ত্রণে বিদ্যালয়ে যায় সুমি। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে নিজের ফুটবল জীবনের শুরু থেকে জাতীয় পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সে।
মিম আক্তার সুমি উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের ধুন্দার দারোগাপাড়া গ্রামের কৃষক মামনুর রশিদ ও গৃহিণী আকলিমা বিবির মেয়ে। সুমি বর্তমানে ধুন্দার উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ অনূর্ধ্ব-১৪ বালিকা ফুটবল প্রতিযোগিতায় নিবন্ধনের মাধ্যমে সুমির ফুটবলযাত্রা শুরু হয়। প্রথমে নন্দীগ্রাম উপজেলা দলের হয়ে মাঠে নামে সে।
উপজেলা পর্যায়ের খেলায় দুপচাঁচিয়া উপজেলার বিপক্ষে নন্দীগ্রাম দল ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে রানার্সআপ হয়। তবে উপজেলা পর্যায়ে দলের হয়ে সুমির পারফরম্যান্স তাকে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে দেয়। পরে রাজশাহী অঞ্চলের হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় সে। ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে রাজশাহী অঞ্চলের মুখোমুখি হয় রংপুর অঞ্চল। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ওই ম্যাচে রংপুর অঞ্চল বিজয়ী এবং রাজশাহী অঞ্চল রানার্সআপ হয়। ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ক্রেস্ট ও মেডেল গ্রহণ করে মিম আক্তার সুমি।
বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সুমি তার ফুটবল খেলার শুরু, অনুশীলন, বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং জাতীয় পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। সে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়। নিজের প্রতিভা ও আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার জন্যও তাদের উৎসাহিত করে। সুমির জাতীয় পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতার কথা শুনে নন্দীগ্রাম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা তার কাছে খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চায়।
পরে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রধান শিক্ষক আলী আজম কৃতী ফুটবলার মিম আক্তার সুমিকে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করেন। শিক্ষকরা তার সাফল্যের প্রশংসা করে ভবিষ্যতে আরও ভালো করার জন্য শুভকামনা জানান। এ সময় সুমি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে দোয়া কামনা করে।
প্রধান শিক্ষক আলী আজম বলেন, সুমির মতো একজন কিশোরী জাতীয় পর্যায়ে ফুটবল খেলে আমাদের এলাকার জন্য গৌরব বয়ে এনেছে। তার সাফল্যের গল্প শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় আগ্রহী করবে এবং তাদের নিজেদের প্রতিভা বিকাশে উৎসাহিত করবে।