মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মাগুরার সাতদোহায় শ্রী শ্রী ন্যাংটা বাবার আশ্রমে এক আলোচনা সভা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, তারেক রহমানের শুভেচ্ছা নিয়ে তিনি এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন। বিগত ১৭–১৮ বছরে অনেক স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে উৎসব পালনের পরিবেশ পাননি, কিন্তু আজ সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে জন্মাষ্টমী উদযাপিত হচ্ছে। মাগুরার এই বিশাল আয়োজন জাতীয় সংস্কৃতির বহুমাত্রিক প্রকাশ এবং সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। তবে বিভিন্ন স্থানে উগ্রবাদী গোষ্ঠী বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে, যার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ অবিচার, গুম, খুন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস, নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়া ও ব্যাংক লুটপাটের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটেছে। সীমা লঙ্ঘনকারীকে সৃষ্টিকর্তা কখনও পছন্দ করেন না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধান বক্তা সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সবসময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয় যাই হোক, আমরা সবাই বাংলাদেশি; দেশে কোনো নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণ নেই। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির মাধ্যমেই একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটি, মাগুরার সভাপতি কুমুদ রঞ্জন বিশ্বাস–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাগুরা ১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান, জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ, পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন ও, জেলা পরিষদের প্রশাসক আলী আহম্মেদ। এ সময় বিভিন্ন সেবাশ্রমের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, কৃষ্ণভক্ত ও বিভিন্ন ধর্মের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজারো ভক্ত শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।