গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বেপরোয়া গতির কাভার্ডভ্যান ও সিএনজির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মা-ছেলেসহ চারজন নিএসজি যাত্রী নিহত হয়েছেন। এসময় সিএনজি চালকসহ আহত হয়েছেন আরও দুজন যাত্রী। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

নিহতরা হলেন- টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার বাশঁতলী ইউনিয়নের বংখুরি চেল্লাগাতিচালা এলাকার ডুবাই প্রবাসি হাসেম মিয়ার স্ত্রী নাছিমা বেগম ওরফে ফিরুজা (৪০) ও তাদের নবম শ্রেনীতে পড়–য়া ছেলে আসাদুল মিয়া (১৬)।

এছাড়াও ওই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নারীসহ অন্য দুই ব্যক্তির নাম পরিচয় জানা যায়নি।

এলাকাবাসী, নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মা নাছিমা একজন গৃহিনী ও ছেলে আসাদুল স্থানীয় বালিয়াজান উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনিতে লেখাপড়া করতেন। গত বুধবার মায়ের সঙ্গে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার কলমাজানি এলাকায় বড় বোন আঁখি আক্তারের বাড়িতে বেড়াতে যান ছেলে আসাদুল।

সেখানে বেড়ানো শেষে শনিবার সকালে বাড়ি বংকুরি চেল্লাগাতিচালা এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন মা নাছিমা ও ছেলে আসাদুল। পরে তারা উপজেলার কালিয়াকৈর বাজার এলাকায় ফুলবাড়িয়া স্টেশন থেকে একটি সিএনজিতে উঠেন। এসময় তাদের মা-ছেলের সঙ্গে একই সিএনজিতে উঠেন আরো তিনজন যাত্রী। সর্বমোট পাঁচজন যাত্রী নিয়ে কালিয়াকৈর বাজার এলাকা থেকে বংকুরি এলাকার উদ্ধেশ্যে রওনা দেন সিএনজি চালক শাকিল।

যাওয়ার পথে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাদের সিএনজিটি কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া-মাওনা সড়কের উপজেলার কাঞ্চনপুর চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা বেপরোয়া গতির মেসার্সস সানি পরিবহনের একটি কভার্ডভ্যানের (ঢাকা মেট্রো-ট ২০-৯৩৯১) সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষের ঘটনায় যাত্রীবাহী সিএনজিটি দুমড়ে মুচড়ে ও কভার্ডভ্যান দুটি গাড়ি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নারীসহ দুজন সিএনজি যাত্রী মারা যান। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় মা নাছিমা, ছেলে আসাদুল, অপর যাত্রী খোকন ও সিএনজি চালক শাকিলকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী।

এদের মধ্যে যাত্রী খোকনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও গুরুতর অবস্থায় মা-ছেলে ও সিএনজি চালককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছেলে আসাদুলকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় মা নাছিমা ও সিএনজি চালক শাকিলের অবস্থার অবনতি হলে ওই হাসপাতাল থেকে তাদের রেফার্ড করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে সিএনজি চালক শাকিলকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মা নাছিমাকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে।

তাৎক্ষনিকভাবে ওই নিহতদের নাম ও পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে সিএনজি চালক শাকিল সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকলেও নাছিমাকে মৃত ঘোষণা করেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক। ছেলে আসাদুলের মৃত্যুর ১ থেকে দেড় ঘন্টা পর মা নাছিমার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আহাজারিতে ভেঙ্গে পড়েন স্বজনরা। খবর পেয়ে পুলিশ মা-ছেলের লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া-মাওনা সড়কটি অতিঝুঁকিপূর্ণ একটা সড়ক। তারপরও গাড়ি চালকরা অতিঝুঁকিপূর্ণ সড়কে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান। যার কারণে এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মা-ছেলেসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের আরো অভিযোগ, সড়কটি হাইওয়ে ঘোষণার পর থেকে প্রায় প্রতিনিয়ত গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র দেখার নামে টাকা তুলছে নাওজোর হাইওয়ে থানা ও ট্রাফিক পুলিশ। কিন্তু ওই পুলিশ গাড়ি থামিয়ে টাকা তুললেও ছোট-বড় দুর্ঘটনায় কোনো খবর নেয় না। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মা-ছেলেসহ চারজনের মৃত্যু হলেও কোনো খবর নেয়নি হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশ। তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাসহ নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এব্যাপারে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে নিহতদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের লাশ শনাক্ত হলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপর দুটি লাশের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এছাড়াও এ ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক কাভার্ডভ্যান চালক ও তার সহযোগীকে পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।