দীর্ঘ পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠকে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পাওয়ার পর অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। ফলে আজ শনিবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালু হয়েছে। এদিকে ধর্মঘট প্রত্যাহার হওয়ায় হিলি স্থলবন্দরে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
হিলি কাষ্টমস সি এন্ড এফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক শাহিন ইসলাম মন্ডল বলেন, গত বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বালুরঘাট সফরকালে প্রশাসনিক বৈঠকে ব্যবসায়ীরা ভারত হিলি স্থলবন্দরের আধুনিকায়ন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহজীকরণ এবং বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার বিষয় তুলে ধরেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী জেলা প্রশাসনকে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভারতের বালুরঘাটে দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ভারত হিলি স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নসহ বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।
তাদের দাবি, অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় শুধু হিলি দিয়ে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও বিধিনিষেধের কারণে ব্যবসায়ীরা সমস্যার মুখে পড়েছিলেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা ও বৈষম্যের প্রতিবাদে তারা গত ৩০ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি বন্ধের কর্মসূচি পালন করেন।