আমার নাড়ী ছেড়া ধন (সন্তান) আরাফাত আজ দিন দিন নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। ওকে নিয়ে আমি আর আমার স্বামী ঢাকার পিজি হাসপাতালসহ বে-সরকারী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছি। তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে এখন আমরা সর্বশান্ত হয়ে গেছি। এখনও নিজেদের সাধ্যমত চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমাদের পক্ষে এখন চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে অসুবিধা হচ্ছে। সম্প্রতি ভোলা সদর হাসপাতালে গেলে শিশু আরাফাত ইসলামের মা রেহানা বেগম এভাবেই কথাগুলো বলেন এ প্রতিনিধির কাছে।

যে বয়সে হাসি-আনন্দ আর খেলাধুলায় মেতে থাকার কথা ছিল, কিন্তু ঠিক সেই সময়ে তাকে লড়তে হচ্ছে এক বিরল রোগের সাথে। জন্মের পর ৮ মাস স্বাভাবিক ছিল। এরপরেই চিরচেনা সেই স্বাভাবিক হাঁসি-আনন্দ, খেলাধুলা আর দেখা যায় না। প্রায় সময়ে অসুস্থ থাকতে হচ্ছে তাকে। বলছিলাম থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত শিশু আরাফাত ইসলামের কথা (২ বছর)। সে ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের রিকশা চালক মনির হোসেন ও রেহানা বেগম দম্পতির সন্তান। আরাফাত ছোট বেলা থেকেই থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্তান্ত। প্রতি ২-৩ মাস পরপর তাকে (বি + পজেটিভ) রক্ত দিতে হয়। আর যখনই রক্ত দিতে বিলম্ব হয়, ঠিক তখনই তার চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে যায়।

এমনকি তার স্বাভাবিক চলাফেরাও স্তব্ধ হয়ে যায়। তখন সে সার্বক্ষণিক ঘুমাতে থাকে। সম্প্রতি এক রক্তদাতার পক্ষ থেকে রক্ত নিতে ভোলা সদর হাসপাতালে আসে তার বাবা-মায়ের সাথে। হাসপাতালেও তাকে নড়া-চড়া বিহীন বেডের উপর বে-ঘোরে ঘুমাতে দেখা গেছে। তার চিকিৎসায় বাবা-মায়ের এ পর্যন্ত অন্তত ৩-৪ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। চিকিৎসার জন্য শিশু আরাফাতকে নিয়ে তারা ঢাকার পিজি হাসপাতালসহ বে-সরকারী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু কোন সুরাহা করতে পারেননি। ওই সমস্ত হাসপাতালের ডাক্তারাগণ বলেছেন আরাফাত যতদিন জীবিত থাকে, ততদিন এভাবেই তাকে রক্ত দিতে হবে।

আরাফাত ইসলামের মা রেহানা বেগমের সাথে কথা বললে তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ২০২৪ সালে আমার এই সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের ৮ মাস পরে হঠাৎ করে সে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। তখন ভোলার শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. অচিন্ত্য কুমার ঘোষ-কে দেখানোর পরে ধারা পরে যে আরাফাত থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত। আমার নাড়ী ছেড়া ধন (আরাফাত) কে নিয়ে আমি চিন্তিত। চিকিৎসার জন্য আমরা তাকে ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়েছি। প্রত্যেক ২-৩ মাস পরপর রক্ত দিতে হয়। যখন রক্ত দিতে দেরী হয়, তখন তার অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে যায়। ধার-দেনা করে এ পর্যন্ত আমাদের ৩-৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আমরা দরিদ্র পরিবার। আমার স্বামী রিকশা চালায়। দিন আনে, দিন খাই। এখন আমাদের পক্ষে আরাফাতের চিকিৎসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আমার সন্তানের চিকিৎসার জন্য সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সাহায্য-সহযোগিতা কামনা করছি।

সমাজের বিত্তবানদের একটু সহযোগিতার কারণে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে শিশু আরাফাত। বড় হয়ে অন্য শিশুদের মত সেও হাঁসি-খুশি ও খেলাধুলা করতে পারবে। যদি কোন হৃদয়বান ব্যক্তি আরাফাতের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করতে চান তাহলে তার বাবা মনির হোসেন (০১৮৩৯-৭১২৪০৩ (বিকাশ ও নগদ) এই নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন। অথবা কেউ যদি তাদেরকে আর্থিক ভাবে সহযোগিতা করতে চান, তাও করতে পারেন। আমাদের একটু সহযোগিতায় যদি একটি নিষ্পাপ শিশু স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে, হাঁসি-আনন্দে অতিবাহিত করুক প্রতিটিক্ষণ এই প্রত্যাশা আমাদের সকলের।