মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার আমলসার বাজারে তিনটি গুদামে অভিযান চালিয়ে ৩২৮ বস্তা সার উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে অবৈধভাবে সার মজুদের অভিযোগে গুদাম মালিক ২ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তাদের দুজন কম পুলিশ গ্রেফতার করেছে।মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপার সম্মেলন কক্ষে এক প্রেসব্রিফিং বিস্তারিত জানান।

পুলিশ সুপার জানান, সরকারের ভাবমূর্তী নষ্ট করার মানষিকতায় সার মজুদ করে কৃত্তিম সংকট সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সার মজুদ কাজে এক শ্রেনীর লোক তৎপরতা চালাতে পারে। এ তৎপরতা বানচাল করতে শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমলসার বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মো. নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওলি মিয়া এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির অভিযানে অংশ নেন।

অভিযানে আমলসার পূর্বপাড়ার বাসিন্দা বদিয়ার রহমানের ছেলে শহিদ জোয়ার্দার এবং প্রয়াত তোফায়েল জোয়ার্দারের ছেলে নবাব জোয়ার্দারের ৩টি গুদামে বিপুল পরিমাণ সার পাওয়া যায়। পরে গুদামগুলো থেকে ২৬৭ বস্তা ডিএপি ও ৬১ বস্তা এমওপি সার উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন,স্থানীয়দের অভিযোগ, সার সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে সার লুকিয়ে রাখতে পারেন। এতে প্রকৃত কৃষকরা সময়মতো সার না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েন। সরকার চায় কৃষকের জন্য যে সার আসে, সেটা যেন ঠিকমতো কৃষকের হাতেই পৌঁছায় । কেউ যদি সার লুকিয়ে রেখে পরে বেশি দামে বিক্রি করতে চায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।

তিনি আরও বলেন, উদ্ধার করা সার বর্তমানে শ্রীপুর থানা হেফাজতে রয়েছে। কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার অবৈধভাবে মজুত, কালোবাজারি বা কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানের সময় শ্রীপুর থানার ওসি অলি মিযা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিনা ইয়াসমিন, সুমন কুমার বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রেসব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্ডার খায়রুল হাসান, শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ অলি মিয়া উপস্থিত ছিলেন।