ফেসবুকে পরিচয়, এরপর প্রেম। সেই প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে রংপুরের পীরগঞ্জে ছুটে এলেন ২৯ বছর বয়সী এক যুবক। শুধু বাংলাদেশে এসেই থেমে থাকেননি তিনি—প্রেমিকার পরিবারের সম্মতি নিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন, পরিবর্তন করেছেন নাম। অবশেষে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক বিয়ে করেছেন পীরগঞ্জের এক তরুণীকে। ব্যতিক্রমী এ ঘটনায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের প্রথমডাঙ্গা গ্রামে। চীনা যুবকের নাম ঝাওহুইয়ান। তার বাড়ি চীনের সিচুয়েন প্রদেশে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশে এসে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে পূর্বের নাম ও ধর্ম পরিবর্তন করে তিনি আয়ান ইসলাম নাম গ্রহণ করেন।

জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে পীরগঞ্জ উপজেলার মিঠিপুর ইউনিয়নের মিঠিপুর পানবাজার গ্রামের সোলাইমান মিয়ার মেয়ে আবিদা সুলতানার সঙ্গে ঝাওহুইয়ানের পরিচয় হয়। ফেসবুকের সেই পরিচয় একপর্যায়ে গড়ায় গভীর প্রেমের সম্পর্কে। এরপর প্রেমিকার টানে বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন চীনা যুবক।

গত ২৫ আগস্ট চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন ঝাওহুইয়ান। এরপর পীরগঞ্জে এসে প্রেমিকা আবিদা সুলতানার সঙ্গে দেখা করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের আগে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে নিজের নাম পরিবর্তন করে আয়ান ইসলাম রাখেন।

বাংলাদেশে আসার ১৬ দিন পর গত ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার প্রথমডাঙ্গা গ্রামে আবিদার নানার বাড়িতে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

আবিদা সুলতানা মিঠিপুর পানবাজার ডিএম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হন। তার পরিবার বর্তমানে প্রথমডাঙ্গা গ্রামে নানার বাড়িতে বসবাস করছে বলে জানা গেছে।

আবিদার পরিবার ও গ্রাসবাসী সূত্র জানায়, ফেসবুকে পরিচয়ের পর থেকেই ঝাওহুইয়ান ও আবিদার মধ্যে যোগাযোগ ছিল। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমের টানে চীন থেকে বাংলাদেশে এসে ঝাওহুইয়ান আবিদার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পরিবারের সম্মতিতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে চীনের এক যুবক প্রেমের টানে পীরগঞ্জে এসে বাংলাদেশি তরুণীকে বিয়ে করেছেন—এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। নব দম্পতিকে একনজর দেখতে প্রথমডাঙ্গা গ্রামে আবিদার নানার বাড়িতে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। স্থানীয়দের অনেকেই মোবাইল ফোনে নবদম্পতির ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

শানেরহাট ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাশেদুল ইসলাম সমনু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ছেলেটি চীন থেকে এসেছে। শুক্রবার তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে জেনেছি।স্থানীয়দের মধ্যে এ বিয়ে নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।