গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক ইউপি সদস্যের (মেম্বার) বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার লোভে পরিষদ ও প্রশাসকের নামে নানা অপপ্রচারের চেষ্টায় লিপ্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ক্ষুব্দ হয়ে উঠেছেন তার সহকর্মী অন্য মেম্বাররাসহ ইউনিয়ন পরিষদের অন্যরা ও স্থানীয় জনতা। তাদের অভিযোগ, প্রায় লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদটি হাতিয়ে নিতে অপপ্রচারে লিপ্ত মেম্বারই দলীয় ক্ষমতার দাপটে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করেছেন। তবে এমন অনিয়ম রুখে দিবেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় জনতা।
এলাকাবাসী ও ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর সারা দেশের মতো গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ছাত্র আন্দোলনে হত্যাকান্ডের ঘটনায় থানায় বেশ কয়েকটি মামলা করেন নিহতের স্বজনরা। এসব হত্যা মামলার আসামী হয়ে পালিয়ে যান বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা। তারা পালিয়ে যাওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছিল। পরে ইউনিয়ন পরিষদের সেবার মান বজায় রাখতে প্রশাসক ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রাণালয়।
এর ধারাবাহিকতায় উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার জয়নাল আবেদীন। কিন্তু তিনি ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামী থাকায় গ্রেপ্তার হন। এরপর গত ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান উপজেলা বিএডিসি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। তিনি সপ্তাহে চারদিন ওই পরিষদে বসেন এবং পরিষদের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এ সুযোগে বিএনপির নেতা দাবী করে ওই পরিষদে দলীয় প্রভাব বিস্তারের করেন ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও বিএনপি নেতা সফিকুল ইসলাম। তিনি দলীয় ক্ষমতার দাপটে যেন অনেকটাই জিম্মি হয়ে পড়েন তার সহকর্মী অন্য মেম্বাররা।
তাদের অভিযোগ, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তার ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন কাজ হাতিয়ে নেন মেম্বার সফিকুল। এ সুযোগে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে উন্নয়ন কাজের টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ এলাকাবাসীর। এছাড়াও ওই মেম্বার দলীয় নেতাদের মধ্যে যোগসাজসে মাঝে মধ্যে পরিষদে অনুপস্থিত থাকেন বলেও জানিয়েছেন ২নং ওয়ার্ড মেম্বার নুরুল ইসলাম। তিনি আরো জানান, তার অনুপস্থিতিতে ৬নং ওয়ার্ডের জনগণ হয়রানির শিকার হলে আমি সেই সেবাও দেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ হয় সে পরিমাণ কাজ করে নাই। প্রায় প্রতিটি কাজেই অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে বলেও অভিযোগ এলাকাবাসীর। এছাড়াও ওই মেম্বারের বিরুদ্ধে অবৈধ করাতকল স্থাপন করে কাঠ চেড়াই করার অভিযোগ রয়েছে। ওই ইউনিয়নবাসী ও তার সহকর্মী অন্য মেম্বারদের অভিযোগ, সবচেয়ে বেশি কাজ বাগিয়ে নিয়েও ওই মেম্বার কিছু লোকের প্ররোচনায় দলীয় ক্ষমতার দাপটে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। এ কারণে তিনি ও তার সহচররা পরিষদের সুনাম ক্ষুন্ন করে প্রশাসকের নামে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
ওই মেম্বার ১৫ লক্ষ টাকা চুক্তিতে অন্যায়ভাবে প্রশাসককে সরিয়ে চেয়ারম্যানের চেয়ারটি ছিনিয়ে নিতে চান বলেও তাদের অভিযোগ। এতে ক্ষুব্দ হয়ে উঠেছেন তার সহকর্মী অন্য মেম্বাররাসহ ইউনিয়ন পরিষদের অন্যরা ও স্থানীয় জনতা। তবে এমন অনিয়ম রুখে দিবেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় জনতা।
ওই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক সেলিম রেজা ও আজিজুল ইসলাম আজিজ জানান, যিনি প্রশাসক তিনি নীতিমান ও সাদা মনের মানুষ। তিনি নিয়ম মাফিক পরিষদে আসেন এবং জনগণকে সেবা দেন।
এই পরিষদে অতিরিক্ত কোনো টাকা-পয়সাও আদায় করা হয় না। উনার বা পরিষদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা ভিত্তিহীন তারপরও কয়েকজন লোক ব্যক্তিগত ভাবে চেয়ারম্যান বানাতে প্রশাসকের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আমরা সেটা কখনোই হতে দিবো না, আমরা উনাকেই প্রশাসক হিসেবে চাই। একই বিষয়ে জানিয়েছেন ওই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক লোকমান হোসেন, ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম, জাবেদ আলী, তোফাজ্জল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, স্বপ্না আক্তারসহ অধিকাংশ মেম্বাররা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) সফিকুল ইসলাম জানান, আমার বিরুদ্ধে ১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চেয়ারম্যান হওয়ার যে অভিযোগটি উঠেছে, সেটাও মিথ্যা ভিত্তিহীন।
এব্যাপারে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা বিএনডিসি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, সপ্তাহে দুদিন দায়িত্ব থাকলেও আমি চারদিন পরিষদে এসে সেবা প্রদান করি। তারপরও আমার বিরুদ্ধে যেসব অপপ্রচার ছড়াচ্ছেন, সেসব ঠিক নয়। তবে আমার ও পরিষদের সুনাম নষ্ট করার লক্ষ্যে এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি চক্র।
উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার বিষয়টি শুনেছি। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। এছাড়াও ওই ওয়ার্ডের উন্নয়ন কাজে অনিয়মের বিরুদ্ধেও অভিযোগ পাইনি। তবে এসব অভিযোগের পেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।