মাঠজুড়ে দর্শকের উচ্ছ্বাস, খেলোয়াড়দের দৌড়ঝাঁপ আর গ্রামবাংলার চিরচেনা উত্তেজনা। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো দলই প্রতিপক্ষকে গাদন দিতে না পারায় শেষ পর্যন্ত টসের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হলো বিজয়ী। এমন নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ায় শেষ হয়েছে দুই দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী দাঁড়িয়াবান্ধা বা গাদন খেলা।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া এলাকায় শুরু হওয়া ফাইনাল খেলা শেষ হয় সন্ধ্যা ৭টার দিকে। গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্যবাহী খেলা দেখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী।

ফাইনালে মুখোমুখি হয় সোনার বাংলা ক্লাব ও আজিত স্মৃতি সংসদ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো দলই গাদন দিতে না পারায় খেলার নিয়ম অনুযায়ী টস করা হয়। টসে সোনার বাংলা ক্লাব বিজয়ী হলেও আয়োজকদের পক্ষ থেকে দুই দলকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। পরে উভয় দলকে ১৫ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়।

আয়োজকরা জানান, এবারের প্রতিযোগিতায় মোট আটটি দল অংশ নেয়। দুই দিন ধরে চলা এ খেলাকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষ মাঠের চারপাশে ভিড় করেন। খেলা দেখতে আসা দর্শকদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় মিলনমেলায়।

খেলা দেখতে আসা শুভ বলেন,ছোটবেলায় গ্রামবাংলার মাঠে এ ধরনের খেলা অনেক দেখেছি। এখন মোবাইল আর আধুনিক বিনোদনের কারণে এসব ঐতিহ্যবাহী খেলা প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে। এখানে এসে গাদন খেলা দেখে খুব ভালো লাগছে। এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে নতুন প্রজন্মও আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে।

আরেক দর্শনার্থী খাদিমুল বলেন,খেলা দেখতে এসে মনে হলো আমরা যেন আগের সেই গ্রামবাংলায় ফিরে গেছি। মাঠের চারপাশে এত মানুষ, সবার মধ্যে যে আনন্দ দেখলাম, তা সত্যিই ভালো লাগার মতো। শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এ ধরনের আয়োজন এলাকার মানুষের মধ্যে একটা সুন্দর মিলন তৈরি করে।

আয়োজকদের মতে, আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে গ্রামীণ খেলাধুলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মাঠের খেলায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি সেই আগ্রহেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন তারা।

রাশিদা ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও আয়োজক শাহারিয়া ইমন রুবেল বলেন,গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী খেলা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো নতুন প্রজন্মের কাছে এসব খেলাকে তুলে ধরা এবং মানুষকে মাঠমুখী করা। এবারের আয়োজনে মানুষের যে সাড়া পেয়েছি, তাতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। ভবিষ্যতেও রাশিদা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন রাশিদা ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট শামিম উল হাসান অপু।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রাশিদা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা উত্তম কুমার বিশ্বাস ও সংগঠনের সভাপতি শাহারিয়া ইমন রুবেল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি বশিরুল আলম চাঁদ, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর হাফিজ লালু, মনোহরদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হায়াত আলী, হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম আন্টু, পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা, ঝাউদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, জেলা কৃষকদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন বিদ্যুৎ, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম এবং সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম টিপু।