গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দুটি কলোনির ২৩টি ও ৫টি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার মধ্যরাতে কালিয়াকৈর পৌরসভার হরিণহাটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আগুনে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও সবকিছু পুড়ে নিঃস্ব হয়েছেন ২৮টি পরিবার। তারা প্রায় সবাই পোশাক শ্রমিক। তবে তাদের নিঃস্ব পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এবং উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক।
এলাকাবাসী, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের হরিণহাটি এলাকায় বুধবার মধ্যরাত ১টার দিকে আমিনুল ইসলামের একটি কলোনিতে হঠাৎ করেই আগুন জ্বলে উঠে। মুহুর্তের মধ্যে আগুন পাশের রাসেল আহমেদের আরেকটি কলোনি এবং কয়েকটি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় আগুন আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে গিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন সেখানে বসবাসরত মানুষ। তারা ছাড়াও আগুনের ভয়াবহতায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে নেভাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয় এলাকাবাসী। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ততক্ষণে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেছে ওই দুটি কলোনির ২৩টি কক্ষ ও ৫টি দোকান এবং এর ভেতরে থাকা তাদের নগদ টাকা, চাল-ডাল, আসবাবপত্র, বৈদু্যুতিক মিটার, তার, ফ্যান, কাপড়-চোপড়, কাঁথা-বালিসসহ বিভিন্ন মালামাল। আগুনের লেলিহান শিখা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও সবকিছু পুড়ে নিঃস্ব হয়েছেন ২৮টি পরিবার। তবে তাৎক্ষণিক ভাবে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুনের সূত্রপাতের সঠিক কারণ জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।
এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান এমপি এবং উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক এএইচএম ফখরুল হোসাইন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এসময় সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান এমপির পক্ষ থেকে এসব নিঃস্ব পরিবারের সদস্যদের দুটি করে কম্বল ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। অপর দিকে উপজেলা ও পৌরসভার পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে এক হাজার করে টাকা, কয়েক দিনের শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। এছাড়াও পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত ভাড়াটিয়া পরিবারকে ৫ হাজার টাকা ও স্থাপনার মালিকদের ১০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হবে বলেও জানিয়েছেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল আলম তালুকদার।
ওই দুটি কলোনিতে বসবাসরত ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন জানান, প্রথমে একটি কলোনিতে হঠাৎ করেই আগুন জ্বলে উঠে। মুহুর্তের মধ্যে আগুন পাশের কলোনি ও দোকানপাটে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন আতঙ্কে আমরা তাড়াহুড়ো করে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাই। আগুনের ভয়াবহতায় এতো তাড়াতাড়ি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়নি। আমাদের প্রায় সবকিছু আগুনে পুড়ে গেছে। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও আগুনে সব পুড়ে এখন আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।
এব্যাপারে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ইফতেখার রায়হান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ২ ঘন্টা চেষ্টার পর রাত ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
কালিয়াকৈর পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল আলম তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান এমপি স্যার এবং উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক এএইচএম ফখরুল হোসাইন স্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এসময় এসব নিঃস্ব পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তবে পর্যায়ক্রমে তাদের মাঝে আরো সহায়তা প্রদান করা হবে।