ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ এবং পরবর্তী তালিকা প্রণয়ন নিয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের সঠিক তালিকা প্রস্তুতেও বিলম্ব হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের জন্য উপজেলা পর্যায়ে আবেদন ও পরীক্ষা নেওয়া হয়। সরকারি গাইডলাইন অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং পরবর্তী ধাপে তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য নির্দিষ্ট কমিটি ও প্রক্রিয়া রয়েছে।
সুন্দরগঞ্জে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশের পর একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। তাদের অভিযোগ, ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় শুমারি কার্যক্রম বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন এবং উপজেলা অফিসের গেটে তালা দেওয়ার মতো কর্মসূচিও পালন করা হয়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি নিয়োগ প্রক্রিয়া পরীক্ষা ও নির্ধারিত নিয়মের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তীতে সেটি বাতিলের দাবি কেন উঠল? একই সঙ্গে তারা জানতে চান, নতুন করে তালিকা বা নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ থাকলে সেই প্রক্রিয়ায় কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং কী ধরনের যাচাই-বাছাই অনুসরণ করা হয়েছে।
আরেকটি অভিযোগ হলো, নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন পেশার মানুষের নাম আসছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, তালিকায় আইনজীবীসহ তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছল পেশার মানুষের নামও রয়েছে। তবে এসব ব্যক্তির আর্থিক অবস্থা, যোগ্যতা এবং তালিকাভুক্তির বৈধতা সরকারি যাচাই ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
ফ্যামিলি কার্ডের সরকারি গাইডলাইনে বলা হয়েছে, ওয়ার্ড পর্যায়ে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ ও প্রাথমিক যাচাই, ইউনিয়ন/পৌর পর্যায়ে তথ্য যাচাই ও খসড়া তালিকা সুপারিশ এবং উপজেলা/থানা পর্যায়ে তালিকা চূড়ান্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। অভিযোগ ও মনিটরিংয়ের দায়িত্ব জেলা পর্যায়ের কমিটির ওপরও দেওয়া হয়েছে।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের দাবি, সুন্দরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ, নিয়োগের ফলাফল এবং পরবর্তী সময়ে নাম অন্তর্ভুক্তির পুরো প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা হোক। একই সঙ্গে কারও রাজনৈতিক পরিচয়, পেশাগত অবস্থান বা ব্যক্তিগত সুপারিশের কারণে যেন প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বাদ না পড়েন, সে বিষয়ে প্রশাসনিক নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে যেসব ব্যক্তি বা পরিবারের নাম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটির বক্তব্য এবং তালিকা যাচাই করা প্রয়োজন।উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফফাত জাহান তুলি জানান,,তথ্য সংগ্রহ কারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ জটিলতা দেখা দিয়েছে, এজন্য মাঠ পর্যায়ে তদন্ত /ভেরিফিকেশন চলমান রয়েছে।এরপরই চূড়ান্ত ফলাফল জানানো হবে।