খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার ৫নং ভান্ডারকোট ইউনিয়নের ২নং লক্ষিখলা গ্রামের চিহ্নিত আওয়ামী সন্ত্রাসী ও ভান্ডারকোট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য মোঃ জসিম শেখ (জসিম বিশ্বাস) কে আজ শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তার আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কেটে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন জসিম বিশ্বাস। দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন।
নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রকাশ্যে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন। ক্ষমতার দাপটে তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পেত না।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলেও জসিমের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অত্যাচার বন্ধ হয়নি। সরকার পতনের পরও তিনি এলাকায় সন্ত্রাসী কায়দায় ক্ষমতার দাপট বজায় রাখেন।
সম্প্রতি তিনি সাধারণ মানুষের জমি জবরদখল করা, খেতের রোপণ করা ধানগাছ উপড়ে ফেলা এবং প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার মতো একাধিক বেপরোয়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তার এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন এলাকার নিরীহ কৃষক ও বাসিন্দারা।
আজ সকালে পুলিশি অভিযানে তিনি গ্রেপ্তার হওয়ায় লক্ষিখলা গ্রামসহ সমগ্র ভান্ডারকোট ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে স্বস্তি নেমে এসেছে। ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী একসূত্রে জসিম বিশ্বাসের কঠোর ও উপযুক্ত শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বটিয়াঘাটা থানা পুলিশ জানায়, জসিম বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ভূমি দখল, হুমকি-ধমকি ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সকালে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সুনিশ্চিত করার মাধ্যমে এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে।