সারাদেশের ন্যায় বগুড়ার নন্দীগ্রামে দ্বিতীয় দফায় বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। এ দফায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া এবং নতুন করে টিকাদানের যোগ্য হওয়া শিশুদের টিকার আওতায় আনা হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ দফায় নন্দীগ্রাম উপজেলায় ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় এক হাজার ৫০০ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট ১২১টি টিকাদান কেন্দ্রে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে ১৯ জন স্বাস্থ্য সহকারীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত হাম-রুবেলা টিকাদানের মূল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। ওই কর্মসূচিতে নন্দীগ্রাম উপজেলায় ১৮ হাজার ৮২৬ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়। এরপর গত তিন মাসে আরও প্রায় এক হাজার ৫০০ শিশু ছয় মাস বয়স পূর্ণ করেছে। পাশাপাশি আগের কর্মসূচিতে বিভিন্ন কারণে টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদেরও এবারের বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় আনা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলার ১২১টি টিকাদান কেন্দ্রে হাম-রুবেলার টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ১৯ জন স্বাস্থ্য সহকারীসহ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করা হচ্ছে।
নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল মাহমুদ লিটন বলেন, স্বাস্থ্য সহকারীরা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের তথ্য সংগ্রহ করছেন। তালিকা অনুযায়ী যোগ্য শিশুদের টিকা নিশ্চিত করা হবে। কোনো শিশু যাতে কর্মসূচি থেকে বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর কড়াইল টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এরই ধারাবাহিকতায় নন্দীগ্রামেও দ্বিতীয় দফার এ বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।