গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মজিদচালা এলাকার বিএনপি নেতার খামার থেকে নারীসহ তিন চোর ও পাঁচটি গরু আটক করে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত চোর সদস্যদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু গরুর প্রকৃত মালিক না পেয়ে নিজ খরচে থানার ভেতরে গোয়ালঘর বানিয়ে গরুগুলো লালন-পালন করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। ফলে চোরাই গরু উদ্ধার করে মাস ব্যাপী চরমভাবে বিপাকে পড়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানার দৌলতপুর এলাকার মৃত ইদ্রিস মুন্সির ছেলে মুজিবুর রহমান (৪৫), তার মেয়ে রোবিনা আক্তার (২৫) এবং ঝিনাইদহের সদর উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মৃত বরুজের মেয়ে সালমা আক্তার (৩২)।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও মজিদচালা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুখলেসুর রহমানের গ্রামের বাড়ি মজিদচালা এলাকায় তার খামার ভাড়া নিয়ে চোরাই গরুর ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র। গত ৩০ আগস্ট বিকেলে চোরচক্রটি ওই খামার থেকে পাঁচটি গরু বিক্রয়ের চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানার ওসি সহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করে। এসময় গরু চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মজিবুর ও তার মেয়ে রোবিনা এবং সালমা নামে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা প্রাথমিকভাবে পুলিশকে গরু চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে। এছাড়াও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এ ঘটনায় জড়িত সুমন শেখ, শহিদুল ইসলাম ও জিন্নাত আলী নামে আরো তিনজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলেও জানায় আটককৃরা।
এ ঘটনায় আটককৃতদের বিরুদ্ধে কালিয়াকৈর থানায় মামলা দিয়ে পরের দিন সোমবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের গাজীপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু প্রকৃত মালিক না পেয়ে নিজ খরচে থানার ভেতরে গোয়ালঘর বানিয়ে গরুগুলোর লালন-পালন করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। প্রতিদিন পাঁচটি গরুর খাদ্য হিসেবে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কেজি খাবার দেওয়া হচ্ছে। এতো অল্প খাবারে প্রয়োজনীয় ক্ষুধা নিবারণ না হওয়া ও প্রয়োজনীয় চিৎিসাসেবা না পাওয়ায় গরুগুলো অনেকটা রোগ্ন হয়ে পড়ছে। ফলে চোরাই গরু উদ্ধার করে মাস ব্যাপী চরমভাবে বিপাকে পড়েছে পুলিশ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে থানার একাধিক পুলিশ সদস্য জানিয়েছেন, গরুগুলো লালন-পালনের জন্য নিজেদের টাকা খরচ করে গোয়ালঘর তৈরি ও খাবারের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। প্রায় এক মাসে অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে। এছাড়াও গরুর বর্জ্রে থানার পরিবেশ দুষিত হয়ে উঠছে। সব মিলিয়ে চোরাই গরুগুলো উদ্ধার করে আমরা চরমভাবে বিপাকের মধ্যে পড়ে আছি। তবে অতিদ্রুত উদ্ধারকৃত গরুগুলো আইনগত প্রক্রিয়ায় সরকারী ভাবে নিলামের ব্যবস্থা করার দাবী জানিয়েছেন পুলিশ সদস্যসহ থানায় সেবা নিতে আসা লোকজন।
এবিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মতর্কা (ওসি) সহিদুল ইসলাম জানান, গরুগুলোর প্রকৃত মালিক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে থানার ভেতরে রেখে লালন-পালন করা হচ্ছে। এগুলি লালন-পালন করা খুবই কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচএম ফখরুল হোসাইন জানান, বিষয়টি থানার পক্ষ থেকে আমাকে জানানো হয়নি। এখন আপনাদের মাধ্যমে যেহেতু বিষয়টা জানলাম, সেহেতু সরকারি নিয়ম নীতি মেনে গরুগুলো নিলামে বিক্রি করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।