চিলমারীর উপজেলার অষ্টমীর চর ইউনিয়নে মাদ্রাসার ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী ১৩ বছরের শিশু স্থানীয় এক বৃদ্ধার দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়ে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুর জীবন নিয়ে শঙ্কায় ভুগছে পরিবার।
মেয়েটির মা চম্পা খাতুন গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢুষমারা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মৃতু মফিজ উদ্দিনের ছেলে বৃদ্ধা মতিবর রহমান (৬৩) কে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। মামলা হলেও ওই বৃদ্ধাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি ঢুষমারা থানা পুলিশ। এ নিয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝর বইছে।
অপরদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয় এলাকাবাসীর বিভিন্ন ফেসবুক পেজে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন। আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসামি মতিবর রহমানের বাড়ি উপজেলার অষ্টমিরচর ইউনয়নের ডাটিয়ার চর গ্রামের পুরাতন বাজারের দক্ষিণ পাশে।
ওই এলাকার বাসিন্দা সাইদুর রহমানের মেয়ে ভুক্তভোগী শিশু, ডাটিয়ারচর থানা পাড়া গ্রামের কওমী মাদ্রাসার ৫ ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করত। এর মধ্যে গত এপ্রিল মাসের শেষের দিকে মতিবর রহমান জোর পুর্বক ওই শিশুকে ধর্ষণ করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এজাহার সূত্রে আরও জানা গেছে, ধর্ষণের ঘটনা কাউকে না জানাতে ভুক্তভোগী শিশুকে প্রাণনাশের ভয় দেখান আসামী মতিবর রহমান। ৫ মাস পার হওয়ার পর শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন আসে। জিজ্ঞাসাবাদ করার একপর্যায়ে শিশুটি তার চাচির কাছে জানায়, একই এলাকার দাদা সম্পর্ক বৃদ্ধা মতিবর রহমান তাকে ধর্ষণ করেছে।
ঘটনাটি জেনে শিশুটির মা এলাকাবাসীর কাছে বিচার চান। আসামী মতিবর রহমানের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের হুমকি দেয়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর শিশুটির মা ঢুষমারা থানায় গিয়ে মতিবর রহমানের আসামি করে মামলা করেন।যাহার মামলা নম্বর ৩ তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ধারা, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন সংশোধিত ২০০৩ আইন ৯/(১)।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী শিশুর মা বলেন, আমি গরিব মানুষ। আমার স্বামী দিন মজুরির কাজ করে। আমি এ ব্যাপারে ঢুষমারা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি। আমি দাবী করছি। আসামীকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে তার ফাঁসির দাবী করছি।
এ বিষয়ে ঢুষমারা থানার ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম,আর সাঈদ বলেন, শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপার স্যারকে জানানো হয়েছে। তবে পুলিশ সুপারের নির্দেশনা মোতাবেক আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।