প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট স্কাউট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে ভোলার ছেলে এ কে এম আব্দুল্লাহ। বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রোগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপনায় ২০২৫ সালের জাতীয় পর্যায়ের ‘প্রেসিডেন্ট স্কাউট অ্যাওয়ার্ড’-এর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে ভোলা সদর উপজেলা থেকে এ কে এম আব্দুল্লাহ এ অ্যাওয়ার্ডের জন্য নির্বাচিত হন। তিনি ভোলা আবদুর রব স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বাংলাদেশ স্কাউটসের উপজেলা, জেলা ও অঞ্চল পর্যায়ের বাছাই ও মনোনয়ন শেষে জাতীয় পর্যায়ের মূল্যায়নে অংশ নেন স্কাউটরা। এর অংশ হিসেবে গত ১৮ থেকে ২০ জুন জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মৌচাক, গাজীপুরে প্রার্থীদের মৌখিক, ব্যবহারিক ও সাঁতার মূল্যায়ন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এবারের জাতীয় পর্যায়ের মূল্যায়নে ভোলা সদর উপজেলার এ কে এম আব্দুল্লাহ ছাড়াও বোরহানউদ্দিন উপজেলা থেকে মাইশা জান্নাত ও শুয়াইব আনাম মনোনীত হন। এর আগে চরফ্যাশন উপজেলায় প্রেসিডেন্ট স্কাউট অ্যাওয়ার্ড অর্জিত হলেও ভোলা জেলার অন্যান্য উপজেলায় এ অ্যাওয়ার্ড ছিল অনুপস্থিত। এবার ভোলা সদর ও বোরহানউদ্দিন উপজেলা থেকে অ্যাওয়ার্ড অর্জনের মাধ্যমে সেই শূন্যতা পূরণ হলো।
এ কে এম আব্দুল্লাহ ২০২৩ সালে ঢাকার মৌচাকে অনুষ্ঠিত জাতীয় জাম্বুরিতে অংশ নিয়ে ‘গৌরব পতাকা’ অর্জন করেন। এছাড়া তিনি জেলা স্কাউটের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে স্কাউট কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
স্কাউটিংয়ে তার পরিবারেরও রয়েছে উল্লেখযোগ্য অবদান। আব্দুল্লাহ এবং তার বাবা মনিরুল ইসলাম ও তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভোলা আবদুর রব স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোলা সদর উপজেলায় স্কাউটিংয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। তার বাবা মনিরুল ইসলাম ভোলা সদর উপজেলার প্রথম এএলটি (অ্যাডভান্সড লিডার ট্রেনার) হিসেবে মনোনীত হন এবং বরিশাল অঞ্চলের প্রথম ডিআরসি হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন।
আব্দুল্লাহর এই অর্জনের পেছনে নিয়মিত উৎসাহ ও পরামর্শ দিয়েছেন ভোলা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ পারভীন আখতার এলটি। প্রেসিডেন্ট স্কাউট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করায় আব্দুল্লাহকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল কুমার দাস, ভোলা আবদুর রব স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাফিয়া খাতুন, জেলা স্কাউট সম্পাদক হাসান মিজানুর রহমান মিঠু, ভোলার বাণী’র উপদেষ্টা মন্ডলির সভাপতি জাকির হোসেন মহিন, সম্পাদক হারুন অর রশীদ, বরিশাল অঞ্চল ও সদর দপ্তরের স্কাউট কর্মকর্তারা। অভিনন্দন জানিয়ে তারা বলেন, এ ধরনের অর্জন ভোলার স্কাউট আন্দোলনকে আরও এগিয়ে নিতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে স্কাউটিংয়ে ভোলা আরও সাফল্য অর্জন করবে।