ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার সাম্প্রতিক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইভান ভিহিভস্কি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ধ্বংসস্তূপে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।

বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, বুধবার ভোরে রাজধানী কিয়েভের পূর্বদিকে অবস্থিত প্রিলুকি শহরে এই হামলা চালানো হয়। একটি রুশ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। এতে ঘুমন্ত অবস্থায় অনেক বাসিন্দা হতাহত হন। আহত হয়েছেন আরও ৫০ জনের বেশি।চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রধান ভিয়াচেস্লাভ চাউস জানান, শহরটিতে পাঁচটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে উত্তর ইউক্রেনের চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকি শহরে। প্রিলুকির আঞ্চলিক গভর্নর ভিয়াচেস্লাভ চাউস জানান, রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ভবন ধসের ঘটনায় পাঁচ শিশুসহ অন্তত ২০ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। একই শহরে আহত হয়েছেন অন্তত ৫৫ জন।

দুর্ঘটনাস্থলে ধসে পড়া অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকের ধ্বংসস্তূপ সরাতে এক্সকেভেটর এবং উদ্ধারকর্মীরা কাজ করছেন। মই ব্যবহার করে ভবনের ওপরের তলাগুলো থেকে ১৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন জরুরি সেবা কর্মীরা।

প্রিলুকির এই হামলাকে রাশিয়ার অন্যতম ‘সবচেয়ে জঘন্য হামলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, রুশ বাহিনী অত্যন্ত নির্মম ও উসকানিমূলকভাবে আঘাত হানতে চেয়েছিল। এটি ছিল তাদের চালানো সবচেয়ে নিকৃষ্ট হামলাগুলোর একটি।

এদিকে, বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানী কিয়েভের শহরতলিতে একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুজন নিহত হয়েছেন বলে কিয়েভের প্রসিকিউটর কার্যালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

অপরদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, কৃষ্ণসাগরের ওডেসা বন্দরের দিকে যাওয়া ইউক্রেনীয় সামরিক সরঞ্জামবাহী একটি জাহাজে তারা সফলভাবে আঘাত হেনেছে। পাশাপাশি ইউক্রেনের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানালেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি মস্কো।

কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার এ যুদ্ধের কারণে বাণিজ্য জাহাজের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োতোভা। গত মঙ্গলবার বুলগেরিয়ার এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে ড্রোন হামলায় দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার একটি ডুবে যায় এবং অপরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রাশিয়ার আক্রমণের জবাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কূটনীতিকেরা রাশিয়ার ওপর নতুন ১ হাজার ৬৪৬টি নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করেছেন, যার মূল লক্ষ্য রাশিয়ার সামরিক শিল্প খাত। ইইউর তিন কূটনীতিক জানিয়েছেন, নতুন তালিকায় থাকা অর্ধেকেরও বেশি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন চেইনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।